পোষা কুকুরের নিস্তব্ধতায় মিলল সূত্র! বাগুইআটিতে ভাই খুনে গ্রেপ্তার ঘাতক দাদা

বাগুইআটি: শহরের উপকণ্ঠে বাগুইআটির চাঞ্চল্যকর বলরাম রাজবংশী হত্যাকাণ্ড ও লুটপাটের ঘটনায় এক চমকপ্রদ মোড়। নিজের আপন ভাইকেই পরিকল্পিতভাবে খুন করার অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বড় দাদা কৃষ্ণ রাজবংশীকে। তদন্তে নেমে এক পোষ্য কুকুরের আচরণের ওপর ভর করেই এই কঠিন রহস্যের জট ছাড়িয়েছে পুলিশ।
যেভাবে ফাঁস হলো চক্রান্ত: ঘটনার দিন বাড়িতে একটি পোষ্য কুকুর থাকা সত্ত্বেও বহিরাগতদের প্রবেশে সে কেন কোনো চিৎকার করল না—প্রথম থেকেই এই প্রশ্নটি ভাবাচ্ছিল গোয়েন্দাদের। স্থানীয়রাও পুলিশকে জানান, ঘটনার সময়ে কুকুরের কোনো ডাক শোনা যায়নি; অথচ পুলিশ আসতেই সেটি চিৎকার শুরু করে। এই খটকা থেকেই মৃতের দাদা কৃষ্ণ রাজবংশীকে আটক করে টানা জেরা করা হয়। জেরার মুখে তাঁর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত নিজের অপরাধ স্বীকার করে সে।
খুনের নেপথ্যে জোড়া কারণ: পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছর ধরে মারাত্মক অসুস্থ ছিলেন বলরাম। তাঁর চিকিৎসার বিপুল খরচ মেটাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল দাদা কৃষ্ণ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ। এই দুই কারণেই ভাইকে চিরতরে পথ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় সে। ঘটনাটিকে ‘ডাকাতি’ বলে চালিয়ে দিতে নিজেই ঘরের আলমারি ভেঙে চুরির নাটক সাজিয়েছিল কৃষ্ণ, যাতে কারও মনে সন্দেহ না জাগে।
তদন্তকারীদের তৎপরতায় এই রোমহর্ষক কাণ্ডের পর্দাফাঁস হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিজের দাদার এমন নৃশংস রূপ দেখে বাকরুদ্ধ প্রতিবেশীরাও। ধৃত কৃষ্ণ রাজবংশীকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।