নন্দীগ্রামে উত্তাপ! ১৯ বছরের পুরোনো মামলায় গ্রেফতার কংগ্রেস প্রার্থী, জামিনের আশায় হাই কোর্টে দৌড়ঝাঁপ

কলকাতা: ১৯ বছরের পুরোনো মামলায় গ্রেফতারির পর এবার জামিন এবং দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। বুধবার সকালে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে বিষয়টির প্রতি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মিলনের আইনজীবী মিলন মুখোপাধ্যায় ও অয়ন ভট্টাচার্য।
কংগ্রেস প্রার্থীর আইনজীবীরা আদালতে জানান, তাঁদের মক্কেল আসন্ন উপনির্বাচনের প্রার্থী। তাই জামিনের আবেদনের শুনানি দ্রুত হওয়া প্রয়োজন। আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি ঘোষ জামিনের মামলা দায়েরের অনুমতি দেন। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে।
গত শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর এলাকা থেকে মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সূত্রের খবর, ২০০৭ সালের জমি আন্দোলন পর্বের খুন, খুনের চেষ্টা, বেআইনি জমায়েত এবং লুটপাটের মতো অভিযোগে নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি ও খেজুরি থানায় একটি মামলা রুজু ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এই গ্রেফতারির পর থেকেই জেলা রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
এর আগেও অন্য মামলাগুলিতে সুরক্ষার আর্জি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এই কংগ্রেস নেতা। সেখানে তাঁর আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, ভোটের ঠিক মুখেই কেন ১৯ বছর আগের মামলায় গ্রেফতার করা হলো? একে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা। যদিও রাজ্য সরকারের আইনজীবী পাল্টা যুক্তিতে জানান, নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি মেনেই পুরোনো মুলতুবি পরোয়ানা কার্যকর করা হচ্ছে এবং এতে আলাদা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।
বর্তমানে নিম্ন আদালতের নির্দেশে জেল হেফাজতে রয়েছেন মিলন প্রধান। খেজুরি থানার মামলায় বুধবার তাঁকে পুনরায় কাঁথি আদালতে হাজির করানো হয়। এখন দেখার, হাই কোর্ট থেকে তিনি স্বস্তি পান কি না।