১৪৪ কোটি নগদ, ১৫ কেজি সোনা! বিদেশে গা-ঢাকা দিয়েও বাঁচলেন না টুলু, খারিজ হাইকোর্টের আবেদন

কলকাতা: বীরভূমের বিতর্কিত ‘পাথর সম্রাট’ নাজিমুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডলের আইনি বিপদ আরও বাড়ল। গ্রেফতারি এড়াতে কলকাতা হাইকোর্টে রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য। ফলে এখন টুলু মণ্ডলকে গ্রেফতার করা এবং তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশের সামনে আর কোনও আইনি বাধা রইল না।
আদালতে তীব্র সওয়াল-জবাব শুনানি চলাকালীন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG) আদালতকে জানান, গত ২৩ মে ‘ন্যাশানাল ইন্টেলিজেন্স গ্রিড’-এর তথ্য অনুযায়ী দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন টুলু। তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রয়েছে। রাজ্য সরকার মুখবন্ধ খামে তদন্তের রিপোর্ট আদালতের কাছে জমা দেয়। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, অপরাধের মাত্রা যথেষ্ট গুরুতর, তাই এই মুহূর্তে তাঁকে কোনও আইনি রক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব নয়।
এর আগে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসেও ধাক্কা খেয়েছিলেন টুলু। নতুন আবেদনটি শুনানির যোগ্য নয় বলে ফেরত পাঠানো হয়।
এসটিএফের অভিযানে চক্ষু চড়কগাছ গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই উধাও টুলু মণ্ডল। তাঁর খোঁজে বীরভূম ও আশপাশের একাধিক জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে রাজ্য পুলিশ ও এসটিএফ (STF)। ইতিমধ্যেই টুলু ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকে যে বিশাল সম্পত্তি ও নগদ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তা দেখে তাজ্জব তদন্তকারীরা:
- উদ্ধার হওয়া নগদ: প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা (এর মধ্যে টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকেই মেলে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা)।
- সোনা: প্রায় ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার।
- স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি: ২৪২টি গাড়ি, ৩০০ বিঘা জমি এবং ২১টি বহুমূল্য সম্পত্তি।
- গ্রেফতারি: ইতিমধ্যেই পুলিশ টুলুর ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিককে গ্রেফতার করেছে।
রহস্য উসকে দিল বড় প্রশ্ন পুলিশ ও তদন্তকারীদের সন্দেহ, টুলু বর্তমানে বিদেশে গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ার মাঝে একটি বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—পুলিশ যেখানে দাবি করছে টুলু এতদিন ধরে পলাতক এবং বিদেশে রয়েছেন, সেখানে কলকাতা হাইকোর্টে একের পর এক মামলা করার জন্য ওকালতনামা ও আইনি নথিতে সই করছেন কে? বিদেশে বসে কীভাবে সই হচ্ছে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে।