SRFTI-তে নজিরবিহীন তাণ্ডব: পেরেক লাগানো লাঠিতে মার, ‘আতঙ্কে’ ক্যাম্পাসে বন্দি পড়ুয়ারা!

SRFTI-তে নজিরবিহীন তাণ্ডব: পেরেক লাগানো লাঠিতে মার, ‘আতঙ্কে’ ক্যাম্পাসে বন্দি পড়ুয়ারা!

কলকাতা: আরএসএস-এর শাখা সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতে’র (এবিজিপি) একটি সভাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (এসআরএফটিআই)। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও থমথমে পুরো ক্যাম্পাস। পরিস্থিতি এতটাই আশঙ্কাজনক যে, হস্টেল ছেড়ে বাইরে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন পড়ুয়ারা। ডিন ও অধ্যাপকরা ছাত্রদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ক্যাম্পাসের মূল ফটকের দিকেও যেতে নিষেধ করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা চেয়ে পঞ্চসায়র থানায় পুলিশ পিকেটিংয়ের আবেদন জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কী নিয়ে গণ্ডগোল?

রবিবার ক্যাম্পাসের মেইন থিয়েটার হলে এবিজিপির সভা চলাকালীন ছাত্র সংসদ অভিযোগ তোলে, তাদের অজান্তেই এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দু’জন ছাত্র প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাঁদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ ওঠে। এরপর ক্যাম্পাসের ছাত্ররা একত্র হয়ে প্রতিহত করতে গেলে বাইরে থেকে সশস্ত্র বহিরাগতরা ঢুকে হামলা চালায়। পেরেক লাগানো লাঠি ও ইট দিয়ে মারে আহত হন দুই শিক্ষার্থী, যাঁদের সোমবার অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। এমনকী অভিযোগ, ছাত্রীদের পোশাক টেনে হেনস্থা এবং ছবি-ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

৩টি এফআইআর ও পুলিশি পদক্ষেপ:

এই ঘটনায় মোট ৩টি এফআইআর রুজু করা হয়েছে:

১. পুলিশের তরফে: সরকারি কাজে বাধা ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ছাত্রদের বিরুদ্ধে।

২. এসআরএফটিআই কর্তৃপক্ষের তরফে: বহিরাগতদের বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে হামলা, শিক্ষক-ছাত্রীদের আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে।

৩. এবিজিপির তরফে: ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত, স্বামী বিবেকানন্দ ও ভারতমাতার ছবি ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ছাত্রদের বিরুদ্ধে।

কড়া বার্তা শিক্ষামন্ত্রীর:

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “যে কোনো প্রতিষ্ঠানে হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। তবে দু’পক্ষের গণ্ডগোলে যদি স্বামী বিবেকানন্দ বা ভারতমাতার ছবিতে লাথি পড়ে, তা ভয়ঙ্কর সংস্কৃতি। কোনো বাঙালি বা আল্ট্রা-লেফ্ট ছাত্রও এমনটা করতে পারে না। পুলিশ তদন্ত করছে, কাউকে ছাড়া হবে না।”

বন্দি জীবনের ছবি:

বাইরে থাকা ভিনরাজ্যের ছাত্ররা একা বাইরে বেরোতে না পেরে বন্ধুদের রুমে মেস শেয়ার করে থাকছেন। সোমবার কোনো ক্লাস হয়নি, মঙ্গলবারও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে আক্রান্ত ছাত্রদের সমস্ত চিকিৎসার দায়ভার নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *