পিতৃপক্ষে জলের অঞ্জলি দিলেই কাটবে পিতৃদোষ! কিন্তু কেন করা হয় তর্পণ? রইল দিনক্ষণসহ আসল রহস্য

পিতৃপক্ষে জলের অঞ্জলি দিলেই কাটবে পিতৃদোষ! কিন্তু কেন করা হয় তর্পণ? রইল দিনক্ষণসহ আসল রহস্য

গত ২৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণিমা তিথির মাধ্যমে সূচনা হয়েছে চলতি বছরের পবিত্র পিতৃপক্ষের। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, এই বিশেষ ১৫টি দিনে আমাদের পরলোকগত পূর্বপুরুষরা মর্ত্যে নেমে আসেন। তাই নিষ্ঠাভরে তাঁদের তর্পণ, শ্রাদ্ধ ও অর্ঘ্য নিবেদন করলে পিতৃপুরুষের আত্মা শান্তি পায় এবং পরিবারে বজায় থাকে সুখ-সমৃদ্ধি।

কেন করা হয় তর্পণ? মহাভারতের অজানা পৌরাণিক কাহিনি: পিতৃপক্ষের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মহাভারতের মহাভীতি যোদ্ধা ও দাতা কর্ণের নাম। জীবদ্দশায় কর্ণ দু’হাত ভরে প্রচুর সোনা-দানা ও ধনসম্পদ দান করলেও মৃত্যুর পর স্বর্গে গিয়ে এক অদ্ভুত বিপদে পড়েন। দেবরাজ ইন্দ্র তাঁকে খাবারের বদলে খাওয়ার জন্য সোনা-রুপো ও হিরে- জহরত অর্পণ করেন।

অন্ন না পেয়ে বিস্মিত কর্ণ কারণ জানতে চাইলে ইন্দ্র জানান— তিনি আজীবন সোনা-দানা দান করলেও নিজের পিতৃপুরুষকে একফোঁটা জল বা একমুঠো অন্ন দেননি। কর্ণ তখন বিনম্রভাবে জানান যে, নিজের প্রকৃত জন্মবৃত্তান্ত না জানার কারণেই এই ভুলটি হয়েছিল। এরপর নিজের ভুল শুধরে নিতে দেবরাজ ইন্দ্রের অনুমুতিতে ১৫ দিনের জন্য মর্ত্যে ফিরে আসেন কর্ণ এবং পিতৃপুরুষকে জল ও অন্ন দিয়ে তৃপ্ত করেন। পুরাণ মতে, কর্ণের সেই ১৫ দিনের মর্ত্যবাস থেকেই শুরু হয় পিতৃপক্ষের এই পবিত্র প্রথা।

তর্পণের আসল অর্থ ও বর্তমান প্রজন্মের করণীয়: ‘তর্পণ’ শব্দের অর্থই হলো ‘তৃপ্ত করা’। শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আধুনিক ও ব্যস্ত জীবনযাত্রায় অনেক নিয়মকানুন নিখুঁতভাবে পালন করা সম্ভব না হলেও, একান্ত নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে কেবল এক অঞ্জলি জল ও তিল অর্পণ করলেই পিতৃপুরুষ প্রসন্ন হন। এতে জন্মছকের ‘পিতৃদোষ’ কেটে যায় এবং জীবনের বহু নেতিবাচক বাধা দূর হয়।

মহালয়া ও পিতৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দিনক্ষণ: আগামী ১০ অক্টোবর সর্বপিতৃ অমাবস্যা তথা মহালয়ার মাধ্যমে শেষ হবে এই পিতৃপক্ষ এবং সূচনা হবে শুভ দেবীপক্ষের।

  • ৩০ সেপ্টেম্বর: চতুর্থী ও পঞ্চমী তিথি
  • ১ অক্টোবর: ষষ্ঠী তিথি
  • ২ অক্টোবর: সপ্তমী তিথি
  • ৩ অক্টোবর: অষ্টমী তিথি
  • ৪ অক্টোবর: নবমী তিথি
  • ৫ অক্টোবর: দশমী তিথি

পরবর্তী একাদশী থেকে চতুর্দশী তিথির আচার অনুসরণের পর ১০ অক্টোবর মহালয়ায় শেষ তর্পণ সম্পন্ন হবে। যাঁদের পূর্বপুরুষদের মৃত্যুর নির্দিষ্ট তিথি জানা নেই, তাঁরা কোনো চিন্তা না করে সরাসরি মহালয়ার দিন তর্পণ ও সাধ্যমতো দানধ্যান করতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *