কম বয়সে সুস্থ শরীরও সুরক্ষিত নয়! জেনে নিন সাইলেন্ট কিলারের আসল সত্য

কম বয়সে সুস্থ শরীরও সুরক্ষিত নয়! জেনে নিন সাইলেন্ট কিলারের আসল সত্য

ওয়ার্কস্টেশনের ব্যস্ততা সামলাতে চিপসের প্যাকেট খোলা, বিকেলের মিটিংয়ে পিজ্জা-বার্গার আর মাঝরাতে অ্যাপে খাবার অর্ডার—২০ থেকে ৩০ বছর বয়সি তরুণের কাছে এগুলো খুব চেনা ছবি। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হওয়া এই অভ্যাসগুলোই চুপিসারে ঢেকে আনছে বড় বিপদ। কম বয়সেই বাসা বাঁধছে ‘সাইলেন্ট কিলার’ হার্ট অ্যাটাক।

কেন বাড়ছে তরুণদের হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি?

শারদাকেয়ার-হেলথসিটির কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও প্রধান ডাঃ অজিত সিংয়ের মতে, ইদানীং যেকোনো বয়সে হার্ট অ্যাটাক হানা দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ফাস্টফুড, প্যাকেটজাত প্রসেসড ফুড, মিষ্টি পানীয়, অতিরিক্ত নুন ও ক্ষতিকর ফ্যাট খাওয়ার ঝোঁক মারাত্মকভাবে বেড়েছে। এর ফলে অল্প বয়সেই উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, কোলেস্টেরল এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো সমস্যা মাথাচাড়া দিচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর পর্যবেক্ষণ বলছে, ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবারের জায়গা কেড়ে নিচ্ছে প্রসেসড ফুড। পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও অতিরিক্ত ফ্যাটজাতীয় এই খাবার শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া নষ্ট করে দিচ্ছে।

শুধু জাঙ্ক ফুড নয়, দায়ী লাইফস্টাইলও

ফরিদাবাদের সরোদয়া হাসপাতালের কার্ডিওথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জারি বিভাগের প্রধান ডাঃ অনুপম দাসের মতে, শুধু খাবার নয়, তরুণদের হৃদ্‌রোগের পেছনে রয়েছে আরও একাধিক কারণ:

  • অনিয়মিত ও অপর্যাপ্ত ঘুম
  • অতিরিক্ত কাজের মানসিক চাপ (Stress)
  • ধূপমান, ভ্যাপিং ও অ্যালকোহল সেবন
  • শারীরিক কসরত বা শরীরচর্চার তীব্র অভাব এবং বায়ুদূষণ

প্রতিদিনের খাবারে কীভাবে ক্ষতি হচ্ছে?

অতিরিক্ত নুন প্রেসার বাড়ায়, ট্রান্স ফ্যাট কোলেস্টেরল বাড়িয়ে রক্তনালি ব্লক করে দেয়, আর অতিরিক্ত চিনি থেকে আসে মেটাবলিক ডিসঅর্ডার। এছাড়া প্রক্রিয়াজাত খাবারে থাকা ক্ষতিকর ফ্যাট শরীরে স্থায়ী প্রদাহ (Inflammation) তৈরি করে। এর থেকে ডায়াবেটিস ও ফ্যাটি লিভারের মতো ব্যাধিও ছড়িয়ে পড়ে।

অনেকে বাইরে থেকে রোগা বা সুস্থ দেখালেও ভেতরে ভেতরে রক্তনালির ক্ষতি হয়ে চলে। WHO জানাচ্ছে, কোনো উপসর্গ ছাড়াই উচ্চ রক্তচাপ শরীরে চেপে বসে—যা সোজা হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক ঘটায়।

তাহলে উপায় কী?

সব প্রিয় খাবার এক লহমায় বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই; পরিবর্তন আনতে হবে অভ্যাসে। ১. খাদ্যাভ্যাস বদল: ডায়েটে শাকসবজি, গোটা শস্য, ডাল, বাদাম ও ফলের পরিমাণ বাড়ান। প্যাকেটের চিপসের বদলে ফল বা ড্রাগ ফুড এবং কোল্ড ড্রিংকসের বদলে জল খাওয়ার অভ্যাস করুন। ২. বাড়ির খাবারে জোর: সপ্তাহে অন্তত অধিকাংশ দিন বাইরের খাবার এড়িয়ে ঘরের তৈরি হালকা রান্না খান। ৩. শারীরিক সক্রিয়তা: নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চার মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

২০-৩০ বছরেই যে টেস্টগুলো জরুরি

‘বয়স কম বলে আমার কিছু হবে না’—এই ভুল ধারণা থেকে বের হয়ে আসা জরুরি। বিশেষ করে পরিবারে যদি হৃদ্‌রোগের ইতিহাস থাকে, তবে অল্প বয়সেই নিয়মিত রক্তচাপ (BP), সুগার এবং কোলেস্টেরল পরীক্ষা করানো উচিত।

মনে রাখবেন, মাঝে মধ্যে একটা বার্গার খাওয়া অপরাধ নয়, কিন্তু তা যদি প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয় তবেই বিপদ। কম বয়স রোগ প্রতিরোধের স্থায়ী গ্যারান্টি দেয় না, তাই আজই খাদ্যাভ্যাস ও লাইফস্টাইল বদলে নিজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *