পুজোর মুখেই রাজ্যে জঙ্গি আতঙ্ক! NIA-র জালে বজবজের যুবক, ফাঁস বাংলাদেশি ছক?

পুজোর মুখেই রাজ্যে জঙ্গি আতঙ্ক! NIA-র জালে বজবজের যুবক, ফাঁস বাংলাদেশি ছক?

উৎসবের মরশুমের মুখেই চরম আতঙ্ক ছড়ালো রাজ্যে! দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের কড়া নজরদারির মধ্যেই এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ থেকে গ্রেফতার হলো এক সন্দেহভাজন জঙ্গি। ধৃতের নাম শেখ জুম্মান হোসেন। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-র প্রাথমিক অনুমান, ধৃত যুবকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ ছিল বাংলাদেশের উগ্রপন্থী কোনো জঙ্গি সংগঠনের।

এই গ্রেফতারির পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—তবে কি উৎসবের আবহেই বাংলায় জাঁকিয়ে বসছে মারাত্মক কোনো বাংলাদেশি জঙ্গি মডিউল?

উত্তর থেকে দক্ষিণ: রাজ্যজুড়ে ৫ জায়গায় সাঁড়াশি অভিযান

গোয়েন্দা সূত্র মারফত খবর, মঙ্গলবার সকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গের উত্তর থেকে দক্ষিণ—একাধিক জেলায় একযোগে সাঁড়াশি অভিযান চালায় এনআইএ।

  • দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর
  • পূর্ব বর্ধমান
  • ডায়মন্ড হারবারসহ মোট ৫টি ভিন্ন স্থানে চলে এই মেগা তল্লাশি অভিযান।

এই ম্যারাথন অভিযানের মাঝেই বজবজ থেকে শেখ জুম্মানকে পাকড়াও করা হয়, যা প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ভয়াবহ ধারায় মামলা ও ‘পূর্ব আকাশ’ কানেকশন

ধৃত শেখ জুম্মানের পরিবারকে এনআইএ-র দেওয়া ‘ইন্টিমেশন অফ অ্যারেস্ট’ সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারা ছাড়াও, বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা UAPA (১০, ১৩, ১৬, ৩৮, ৩৯ ও ৪০)-র কঠোর সব ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে তাকে।

তদন্তকারীদের দাবি, মূল মামলার চার্জশিটে নাম থাকা উগ্রপন্থীদের সাথে জুম্মানের নিবিড় যোগসূত্র ছিল। এমনকি ‘পূর্ব আকাশ’ নামের একটি চরমপন্থী ও র্যাডিক্যালাইজড টেলিগ্রাম গ্রুপের সাথেও সে যুক্ত ছিল বলে সন্দেহ করছেন গোয়েন্দারা।

জেএমবি (JMB) মডিউল ও দেশজুড়ে জাল বিস্তার

তদন্তে সামনে এসেছে জামাত-উল-মুজাহিদিন (JMB)-এর মতো শীর্ষ জঙ্গি সংগঠনগুলির নাম। জানা গেছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সোশাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে তারা নতুন করে সংগঠন বাড়ানোর ছক কষছিল। কিছুদিন আগেই একই অভিযোগে গুয়াহাটি থেকে কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছিল এনআইএ। সেই গুয়াহাটি কাণ্ডের খৈ ধরে এগোতেই এবার বাংলাতেও মিলে গেল এই স্লিপার সেলের মারাত্মক নেটওয়ার্ক!

প্রথমে স্থানীয় পুলিশের হাতে খবর এলেও, বিষয়ের গুরুত্ব বিবেচনা করে পুরো তদন্তের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেয় এনআইএ। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের একাধিক জায়গায় জোরকদমে তল্লাশি চলছে। পুজোর ঠিক মুখে এই গ্রেফতারি রাজ্যের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *