‘মিলেনি কিছুই!’ কোলাঘাটের বাড়িতে সার্চের মামলায় বড় স্বস্তি শুভেন্দু অধিকারীকে
/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2024/04/Suvendu-Adhikari.jpg?w=640&fit=640,360&ssl=1)
কলকাতা: ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের মুখে কোলাঘাটে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাড়া করা বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে চালানো পুলিশি তল্লাশি সংক্রান্ত মামলাটি অবশেষে নিষ্পত্তি করল কলকাতা হাইকোর্ট। ঘটনার আড়াই বছর পর কোলাঘাট থানা আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে—সেই তল্লাশিতে সন্দেহজনক কিছুই উদ্ধার হয়নি এবং সিজার লিস্টও পুরোপুরি শূন্য ছিল। ফলে মামলায় তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা না থাকায় বিচারপতি মামলাটি খারিজ করে দেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের শেষ লগ্নে। একটি কর্মসূচিতে নন্দীগ্রামের তৎকালীন বিধায়ক জেলা সফরে থাকার সময় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি বিরাট পুলিশ বাহিনী হঠাৎই তাঁর কোলাঘাটের বাড়ি ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করে। পুলিশের তরফে তখন দাবি করা হয়, এক চিহ্নিত অপরাধীর খোঁজেই এই তল্লাশি। কিন্তু তৎকালীন বিরোধী দলনেতার অনুপস্থিতিতে এই ধরণের অতর্কিত অভিযানে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা, যা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তীব্র বচসা তৈরি হয়।
পরে খবর পেয়ে সোজা কোলাঘাট থানায় পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো বড় অফিসার না থাকায় তিনি তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। সে সময় তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেছিলেন, হাইকোর্টের দেওয়া বিশেষ আইনি সুরক্ষাকবচ থাকা সত্ত্বেও এবং কোনো নির্দিষ্ট ‘সার্চ ওয়ারেন্ট’ বা নিরপেক্ষ ভিডিওগ্রাফি ছাড়াই এই অভিযান চালানো হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে তিনি শাসকদল ও তৎকালীন প্রশাসনকেও কড়া ভাষায় বিঁধেছিলেন।
পুলিশের এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শুভেন্দু অধিকারী। আবেদনে এও দাবি করা হয় যে, পুলিশি অভিযানের আড়ালে ভোটকুশলী সংস্থার প্রতিনিধিরাও সেখানে ঢুকেছিলেন। দীর্ঘ তদন্তপ্রক্রিয়া শেষে অবশেষে আদালতকে পুলিশ লিখিতভাবে জানিয়ে দেয়—তল্লাশিতে বেআইনি কিছুই মেলেনি। পুলিশের সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই হাইকোর্ট এই বহুল চর্চিত মামলাটি বন্ধের নির্দেশ দিল।