পাঞ্জাব নয়, এবার বাংলাতেই সাইকেল কারখানা! ‘সারথি’ বিতরণে সরব মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যের স্কুলপড়ুয়াদের জন্য এক সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্প এবার এক নতুন রূপ পেয়েছে। নাম পরিবর্তন করে রাজ্য সরকার চালু করেছে ‘সারথি’ প্রকল্প, যার অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে সাইকেল তুলে দেওয়া শুরু হলো। হাওড়ার একটি স্কুলে আয়োজিত এই সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানটি কেবল নতুন রূপান্তরের সাক্ষীই থাকেনি, বরং প্রাক্তন সরকারের নানা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো রাজনৈতিক আক্রমণের মঞ্চেও পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে অব্যবস্থা ও স্বজনপোষণের গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর সাথে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পের সাইকেলের মূল যন্ত্রাংশ আনা হতো পাঞ্জাব থেকে। এ রাজ্যে কেবল সেগুলির সংযোজন বা অ্যাসেম্বলিংয়ের কাজ চলত। তিনি আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে জানান, এই সংযোজনের কাজগুলি পেতেন তৎকালীন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের আত্মীয়রাই।
অতীতে সবুজ সাথী প্রকল্পের সাইকেলের গুণমান নিয়ে বহু বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানোর কিছুদিন পরই কলকব্জা খুলে যাওয়া কিংবা গোডাউনে ফেলে রেখে জং ধরে নষ্ট হওয়ার মতো বহু অভিযোগ উঠেছিল।
সেই পুরোনো ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা কাটিয়ে এবার সম্পূর্ণ বাংলায় তৈরি উন্নতমানের সাইকেল পড়ুয়াদের দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ভিনরাজ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এবার থেকে রাজ্যেই সাইকেল তৈরি করা হবে। যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে সাইকেলের কারখানা গড়ে তুলবেন, সরকার তাঁদের জমি জোগাবে এবং তাঁদের কাছ থেকেই সরাসরি সাইকেল কেনা হবে। রাজ্যেই সাইকেল তৈরির এই নতুন মাস্টারপ্ল্যান এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।