‘জামাই আদর শেষ, ঘাড় ধরে বার করা হবে!’ বাংলায় জঙ্গি স্লিপার সেল নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দেবজিৎ সরকারের

‘জামাই আদর শেষ, ঘাড় ধরে বার করা হবে!’ বাংলায় জঙ্গি স্লিপার সেল নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দেবজিৎ সরকারের

কলকাতা: সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে জঙ্গি সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’-র সন্ধানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA-র টানা তল্লাশি এবং চারজনের গ্রেফতারির ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। এই আবহে রাজ্যে জাঁকিয়ে বসা ‘স্লিপার সেল’ ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্য বিজেপি প্রধান দেবজিৎ সরকার।

‘জামাই আদর শেষ, এবার ঘাড় ধরে বের করা হবে’ সাংবাদিক সম্মেলনে দেবজিৎ সরকার দাবি করেন, রাজ্যে এনআইএ তল্লাশির অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। বাংলাদেশ থেকে প্রচুর জঙ্গি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী এ রাজ্যে ঢুকে পড়েছে। এতদিন যারা এখানে এসে “জামাই আদর” পাচ্ছিল, তাদের দিন শেষ। মঙ্গলকোটের এক ইমামের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ডায়েরি ও নথির সূত্র ধরে বড়সড় চক্রান্তের ইঙ্গিত মিলছে।

‘তৃণমূলের আমলে পশ্চিমবঙ্গ ছিল সেফ প্যাসেজ’ দেবজিৎবাবু তোপ দেগে বলেন, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে সীমান্তে ফেন্সিং না থাকায় পশ্চিমবঙ্গকে জঙ্গিদের জন্য ‘সেফ প্যাসেজ’ বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে নতুন রাজ্য সরকার আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর করেছেন। ফলে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি মহানন্দার তীর, রাজারহাট কিংবা গুলশন কলোনির মতো ভুঁইফোড় ডেরা ছেড়ে গা ঢাকা দিচ্ছে অপরাধীরা।

জনসাধারণের প্রতি সতর্ক বার্তা যে সমস্ত অনুপ্রবেশকারী বা স্লিপার সেলের সদস্যরা এখনও রয়ে গেছে, তাদেরকে সোজা আইন আইনের আওতায় এনে ‘ঘাড় ধরে বার করে দেওয়ার’ চরম বার্তা দেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ তুলে ধরে দেবজিৎবাবু রাজ্যবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “চারপাশে কোনো অসংলগ্ন বা সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এলেই অবিলম্বে স্থানীয় থানায় জানান, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।”

তোলাবাজিতে জিরো টলারেন্স ‘নব্য বিজেপি’ বা দলীয় পরিচয় দিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট জানান, বিজেপির কোনো কর্মী বা সমর্থক যদি কোনো এলাকায় তোলাবাজি বা জোর জবরদস্তি চাঁদা তোলার সঙ্গে যুক্ত থাকে, দল তাকে কোনোভাবেই রক্ষা করবে না। কোনো রকম ‘পলিটিক্যাল ইমিউনিটি’ বা রাজনৈতিক নিরাপত্তা দেওয়া হবে না। এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় ক্লাব কর্মকর্তাদের সোজা থানায় গিয়ে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *