“সোমবারই খারিজ করব!” ভোটের মুখে সুপ্রিম কোর্টে বিশাল ধাক্কা রাজ্য সরকারের!

নন্দীগ্রাম: আসন্ন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক আগেই আইনি লড়াইয়ে বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। ১৯ বছরের পুরনো মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন পাওয়া কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের জামিন বাতিলের আর্জি নিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার জরুরি ভিত্তিতে শুনানি করতে স্পষ্ট অস্বীকার করেছে। ফলে ভোটের মুখে বড় স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী।
‘সোমবারই খারিজ করব!’— সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা
আসন্ন সোমবার নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বৃহস্পতিবারই মামলাটি তালিকাভুক্ত করার আবেদন জানান। তিনি দাবি করেন, একটি খুনের মামলায় হাইকোর্ট অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে, ভোটের আগে এর শুনানি না হলে আর্জি নিষ্ফল হয়ে যাবে।
তবে সলিসিটর জেনারেলের এই জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি। রাজ্য সরকার পুনরায় জোরালো আর্জি জানালে প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, “আমরা আশ্বাস দিতে পারি, সোমবারই তা খারিজ করব।” এর পর আর জরুরি শুনানির কোনো সুযোগই থাকেনি।
১৯ বছরের পুরনো মামলা ও হাইকোর্টের রায়
২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন সম্পর্কিত ১৯ বছরের পুরনো একটি মামলায় সম্প্রতি গ্রেফতার করা হয়েছিল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। গত মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাঁকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন দেন। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছিল যে, দীর্ঘ দিন ধরে মামলাটি অমীমাংসিত হলেও মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি পুলিশ হেফাজতে ছিলেন না। তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাঁর ভোটাধিকার ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থাকা উচিত।
হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য দ্রুত সুপ্রিম কোর্টে গেলেও ভোটের আগে কোনো স্বস্তি মেলেনি। শীর্ষ আদালতের এই অবস্থানের পর আপাতত অবাধেই প্রচার ও নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান।