গায়ের জোরে পৈতৃক জমি দখল! প্রাক্তন মন্ত্রীর স্বজনদের বিরুদ্ধে থানায় নালিশ, তদন্তে প্রশাসন

গায়ের জোরে পৈতৃক জমি দখল! প্রাক্তন মন্ত্রীর স্বজনদের বিরুদ্ধে থানায় নালিশ, তদন্তে প্রশাসন

চাঁচল মহকুমার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার বাংরুয়া এলাকায় কোটি টাকারও বেশি মূল্যের পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ উঠল রাজ্যের প্রাক্তন এক মন্ত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের প্রাক্তন রাষ্ট্রমন্ত্রী তাজমুল হোসেনের ভাই জম্বুর রহমান এবং মন্ত্রীর ছেলে ইমরান হোসেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সমগ্র এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক শোরগোল তৈরি হয়েছে।

অভিযোগকারী স্থানীয় কৃষক মেহেবুল আলম জানান, ১৯৭৬ সাল থেকে এই ১৮ শতক জমিটি তাঁদের দখলে ছিল এবং এটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি। কিন্তু ২০২৩ সালে তৎকালীন শাসকদলের দাপট ও প্রভাব খাটিয়ে গায়ের জোরে জমিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলেন প্রাক্তন মন্ত্রীর ভাই ও ছেলে। সেই সময় অভিযোগ জানাতে গেলে মারধর এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ফলে ভয়ের কারণে এতদিন মুখ খুলতে বা পুলিশে নালিশ জানাতে সাহস পাননি কৃষক মেহেবুল ও তাঁর পরিবার।

অবশেষে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে মেহেবুল আলম এবং তাঁর দুই ছেলে মনজুর আলম ও মহম্মদ রানু হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এবং চাঁচল মহকুমা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। রাস্তার ধারের অত্যন্ত মূল্যবান এই জমিটি হাতছাড়া হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছিল কৃষক পরিবারটি। পুলিশ ও প্রশাসনের দ্বারে পৌঁছানোর পর এবার সুবিচারের আশা দেখছেন তাঁরা।

তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রীর ভাই জম্বুর রহমান। তাঁর পাল্টা দাবি, বায়নামা (অ্যাডভান্স চুক্তি) করার মাধ্যমেই তাঁরা নিয়ম মেনে জমিটি কিনেছিলেন। সম্প্রতি ওই এলাকায় জমির বাজারমূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁদের চক্রান্ত করে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে চাঁচল মহকুমা প্রশাসন ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি, বিডিও এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের (BL&LRO) কর্তাদের রাখা হয়েছে। মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জমি দখলের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *