৪ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে চরম অস্বস্তি! সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেল তৃণমূল

৪ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে চরম অস্বস্তি! সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেল তৃণমূল

দলীয় চার-চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (TMC Freeze Account) করার নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু শীর্ষ আদালত সরাসরি এই বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করল না। মামলাটি ফের কলকাতা হাইকোর্টেই ফেরত পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টকে দ্রুত শুনানির অনুরোধ করা হয়েছে। ফলে আপাতত ওই চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ওপর ফ্রিজের আদেশই বহাল থাকছে।

আদালতে তৃণমূলের যুক্তি:
সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। তিনি আদালতের কাছে দাবি করেন:

অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ থাকায় দলের দৈনন্দিন রাজনৈতিক কাজকর্ম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

উপনির্বাচনের আবহে দল চালাতে প্রতি মাসে অন্তত ১২.১৫ কোটি টাকা প্রয়োজন।

তৃণমূলের বার্ষিক খরচ প্রায় ২১২ কোটি টাকা।

অন্য একটি মামলায় হাইকোর্ট তিনটি HDFC অ্যাকাউন্ট থেকে দৈনিক খরচ চালানোর জন্য প্রশাসক নিয়োগ করলেও, তা দিয়ে সব খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

CID-এর বিস্ফোরক দাবি:
অন্যদিকে, রাজ্য CID-এর পক্ষে সওয়াল করে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, এই তদন্তের শিকড় বেশ গভীর। তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন:

তৃণমূলের এক সাধারণ সম্পাদকের ব্যক্তিগত সহায়কের (PA) মাধ্যমে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা নগদ জমা করা হয়েছিল।

সরকারি জমিকে বেআইনিভাবে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানিয়ে কোটি কোটি টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে, যার তদন্ত চলছে।

এই দুর্নীতির তদন্তের স্বার্থেই অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করা জরুরি ছিল।

বিকল্প ফান্ডের তথ্য ও সুপ্রিম নির্দেশ:
শুনানি চলাকালীন ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল’-এর আইনজীবী আদালতকে জানান, অন্য একটি HDFC অ্যাকাউন্টে এখনও ৪২০ কোটি টাকা রয়েছে। আদালত নিযুক্ত প্রশাসক চাইলে সেখান থেকে দলের খরচের অর্থ ছাড় করতে পারেন, তাই দলীয় কাজ আটকে থাকার প্রশ্ন নেই।

সমস্ত যুক্তিতর্ক শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট তৃণমূলের চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ভাগ্য নির্ধারণের দায়িত্ব কলকাতা হাইকোর্টের ওপরই ছেড়ে দিয়েছে। ফলে এখন হাইকোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *