ইন্ডিয়া জোটে বড় পদক্ষেপ! দিল্লির মঞ্চ থেকে বাম-তৃণমূল সমীকরণ স্পষ্ট করলেন মমতা

নয়াদিল্লি: সিপিআইএমের (CPIM) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির চিঠি এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হওয়া গুঞ্জন নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে যাবতীয় বিতর্কে ইতি টেনে তিনি জানান, কোনো দলীয় সমীকরণ নয়, বরং বড় ধরনের একটি ‘জাতীয় ইস্যু’র কারণেই তাঁদের মধ্যে এই যোগাযোগ হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে মমতা স্পষ্ট জানান, “আমাকে বেবিজি চিঠি লিখেছিলেন, কারণ এটা একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু। দেশে যখন বড় কোনো সংকট দেখা দেয়, তখন সব কিছু ভুলে সেই সংকটের সমাধান করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।” তৃণমূলনেত্রী আরও জানান, চিঠিটি পাওয়ার পর তিনি তা কংগ্রেসের কাছেও পাঠান এবং বিষয়টি নিয়ে এম এ বেবির সঙ্গে সরাসরি টেলিফোনে বিস্তারিত কথা বলেন।
ফোনে কী কথা হয়েছিল দুই নেতার? সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বিতর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধী ঐক্যে নতুন করে গতি আসে। তার প্রেক্ষাপটেই সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি সমস্ত বিরোধী নেতাকে একটি চিঠি পাঠান। সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই চিঠির লিখিত জবাব দেওয়ার পর গত শনিবার রাহুল গান্ধী এবং এম এ বেবির সঙ্গে আলাদাভাবে ফোনে কথা বলেন।
টেলিফোনিক কথোপকথনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরামর্শ দেন, আর সময় নষ্ট না করে যত দ্রুত সম্ভব ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) ব্লকের বৈঠক ডাকা প্রয়োজন। এম এ বেবি যখন সব বিরোধীদের নিয়ে বড়সড় কর্মসূচির প্রস্তাব দেন, তাতে পূর্ণ সমর্থন জানান তৃণমূলনেত্রী। শুধু বৈঠকেই সীমাবদ্ধ না থেকে বিরোধীদের অতি দ্রুত একজোট হয়ে রাজপথে নামার বার্তাও দেন তিনি।
১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে রাজপথে নামছে বিরোধী শিবির: এই ফোনালাপ ও তৎপরতার পরেই দিল্লিতে তড়িঘড়ি বৈঠকে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গে সহ বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দান থেকে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করবে বিরোধী শক্তি।