আদালতে বড় ধাক্কা মমতা শিবিরের! ৪ অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহারে ‘না’ সুপ্রিম কোর্টের

আদালতে বড় ধাক্কা মমতা শিবিরের! ৪ অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহারে ‘না’ সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি: নির্বাচনের আগে আইনি লড়াইয়ে বড়সড় ধাক্কা খেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় তহবিলের টাকা ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই ফিরতে হলো তাদের। ইন্ডিয়া ব্যাঙ্কের আরও ৪টি অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহারের আবেদন জানিয়ে যে পিটিশন দাখিল করা হয়েছিল, তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

আদালতে যা যুক্তি দেয় মমতা শিবির: তৃণমূলের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আদালতে সওয়াল করে জানান, গত ১১ অগাস্টের রায়ে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ করে দলের দৈনন্দিন খরচ চালানোর পথ নির্দেশ করা হয়েছিল। অডিটেড অ্যাকাউন্টে প্রায় ২১২ কোটি টাকা রয়েছে, যা দিয়ে দলের মাসিক ও সাংগঠনিক খরচ মেটাতে হয়। সামনেই নির্বাচন থাকায় প্রচার ও প্রশাসনিক কাজের জন্য ওই ৪টি অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহারের জরুরি অনুমতি চাওয়া হয়।

বিরোধীদের বক্তব্য ও কমিশনের ভূমিকা: অন্য দিকে, রাজ্য পুলিশের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং দলের ভেতরের ক্ষমতার টানাপোড়েনের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি, ঋতব্রত পন্থীদের তরফে আদালতে জানানো হয়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI) অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) নাম ও দলীয় প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করে দিয়েছে। ফলে বর্তমানে অ্যাকাউন্টের প্রকৃত অধিকার কার, তা এখনও নির্দিষ্ট হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ: সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি এম এম সুন্দরেশের বেঞ্চ মমতা পন্থী তৃণমূলের আবেদন খারিজ করে দেয়। সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া আগের নির্দেশে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হবে না।

হাই কোর্টের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত: উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাই কোর্টের রায়ে অবিভক্ত তৃণমূলের নাম ও প্রতীক হাতছাড়া হলেও ৩টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অধিকার মমতা শিবিরের হাতেই ছিল। হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণ করে জানান, নির্বাচন কমিশন এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাই উপনির্বাচনের কথা মাথায় রেখে আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ওই ৩টি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা খরচের অধিকার তাদেরই থাকবে। হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্তই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *