নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি! অনুমতি না মিললেও মুম্বইয়ে ‘জেল ভরো’র ডাক

মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তীতেই মুম্বইয়ের রাজনৈতিক ময়দান এক ধাক্কায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠার মুখে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নামার ডাক দিয়েছে ‘কোকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। আগামী ২ অক্টোবর দুপুর ৩টেয় মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে এই মেগা প্রতিবাদের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে মুম্বই পুলিশ ইতিমধ্যেই এই বিক্ষোভের অনুমতি দিতে পরিষ্কার না করে দিয়েছে।
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নিজেদের দাবিতে অনড় দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। পুলিশের অনাপত্তি না মেলায় এবার সরাসরি ‘জেল ভরো’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন সিজিপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।
কেন এই তীব্র ক্ষোভ? মূল দাবিগুলি কী?
কোকরোচ জনতা পার্টির ক্ষোভের মূল কেন্দ্রে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত। তাদের প্রধান দাবিগুলি হলো:
- সিইসি-র পদত্যাগ: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা এবং তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ফৌজদারি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ।
- এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত: ভোটার তালিকার বিশেষ পুনরীক্ষণ (SIR) প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করা।
- পুরনো তালিকা পুনর্বহাল: ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের ভোটার তালিকা ফের কার্যকর করা।
অভিজিৎ দিপকের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, তাঁদের দাবি না মানা হলে এই প্রতিবাদ কেবল মুম্বইয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। চলতি মাসের শেষের দিকে দিল্লির যন্তর-মন্তরে সুবিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
উত্তপ্ত রাজনীতি, পাশে বিরোধী শিবির
ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলি বেশ কিছুদিন ধরেই সরব। সিজিপির এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক পারদ নতুন করে চড়তে শুরু করেছে। শিবসেনা (UBT) বিধায়ক আদিত্য ঠাকরে ইতিমধ্যেই এই প্রতিবাদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
পাশাপাশি, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা এবং রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (MNS) যৌথভাবে আগামী ৪ অক্টোবর আরও একটি পৃথক প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে। সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা বিতর্ককে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন বনাম বিরোধীদের এই সংঘাত যে আগামী দিনে আরও তীব্র রূপ নিতে চলেছে, তা নিশ্চিত।