মমতার অ্যাকাউন্টে ৩০ লাখ! ইন্দ্রনীলের ‘মাস আর্ট’ কাণ্ডে ইডি-র চাঞ্চল্যকর তথ্য

কলকাতা: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি এবং আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত ‘মাস আর্ট’ মামলার তদন্তে নেমে এক বিস্ফোরক দাবি করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ইডি-র দাবি, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন সংস্থা থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
টাকা স্থানান্তর ও ‘রয়্যালটি’ বিতর্ক ইডি জানাচ্ছে, ইন্দ্রনীল সেন মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর এবং তাঁর মালিকানাধীন সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্টে মোট ৩.৮ কোটি টাকা জমা পড়েছিল। পরবর্তীতে সেই অ্যাকাউন্ট থেকেই ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয় মমতার অ্যাকাউন্টে। ইডি-র জিজ্ঞাসাবাদের জবাবে ইন্দ্রনীল সেন দাবি করেছেন, এই অর্থ আসলে গানের ‘রয়্যালটি’ বাবদ মমতাকে দেওয়া হয়েছিল।
৮৫ কোটি টাকার টেন্ডার দুর্নীতি? তদন্তে নেমে আরও একাধিক অনিয়মের হদিস পাওয়ার দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। অভিযোগ, ইন্দ্রনীল পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকাকালীন তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী— ধ্রুবজ্যোতি বোস এবং দীপেশ রায়ের মালিকানাধীন সংস্থাগুলিকে ৮৫ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সরকারি টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেই সংস্থাগুলির হাত ঘুরে আবার বিপুল পরিমাণ অর্থ ইন্দ্রনীলের আত্মীয়দের অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়। এই পুরো অর্থ লেনদেনের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে পুজোর ‘ভুয়ো’ টিকিট বিক্রি ইডি-র দাবি অনুযায়ী, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পরই গড়ে ওঠে ‘মাস আর্ট’ নামক সংস্থাটি। ইউনেস্কো অনুমোদিত বলে নিজেদের দাবি করে সংস্থাটি দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ বা প্যান্ডেল দর্শনের জন্য টিকিট বিক্রি শুরু করে, যার দাম ছিল ১,৭৪৯ টাকা থেকে ৫,৪৯৯ টাকা পর্যন্ত।
- অভিযোগ: সংস্থাটির সঙ্গে ইউনেস্কোর কোনও বাস্তব সম্পর্কই ছিল না।
- বিপুল উপার্জন: শুধুমাত্র ২০২৩ ও ২০২৪ সালেই ১ লক্ষেরও বেশি টিকিট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়।
- মূল অভিযুক্ত: সংস্থার সভাপতি (ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেন), সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি বসু এবং ইন্দ্রনীল সেন নিজে।
বৌবাজার থানায় জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির করা এফআইআর-এর ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে। সেই সূত্রে পিএমএলএ (PMLA)-এর ১৭ নম্বর ধারায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর কলকাতার ১৫টি স্থানে তল্লাশি চালায় ইডি। গত বুধবার দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর আগামী সপ্তাহে প্রাক্তন মন্ত্রীকে ফের তলব করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।