আফগান সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘাত, পাকিস্তানের বিমান হামলায় পাল্টাপাল্টি দাবিতে উত্তপ্ত দুই দেশ

আফগানিস্তানের জোড়া প্রদেশে পাকিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলাকে কেন্দ্র করে তীব্র সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেছেন, বুধবার রাতে হেলমান্দ ও কুনার প্রদেশে বেসামরিক বসতি লক্ষ্য করে পাকিস্তান এই আক্রমণ চালায়। এতে অন্তত ৯ জন সাধারণ আফগান নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে, এবং আহত হয়েছেন ১১ জন। কাবুল এই হামলাকে সরাসরি আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক নীতির লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পুলিশ ব্যারাকে জঙ্গি হামলার পর থেকেই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে চরম টানাপোড়েন চলছিল।
অন্যদিকে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রক সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি পেশ করে জানিয়েছে, বেসামরিক এলাকা নয়, বরং আফগানিস্তানে আশ্রয় নেওয়া জঙ্গিদের গোপন ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল। তাদের দাবি, নিখুঁতভাবে পরিচালিত এই হামলায় ২২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে এবং সেখানে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে—ইসলামাবাদের এমন অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে তালিবান সরকার। দুই দেশের সম্পর্কের এই অবনতির মাঝেই রাষ্ট্রসংঘ জানিয়েছে, চলতি বছরে সীমান্ত সংঘাতের কারণে ইতিমধ্যেই এক হাজারের বেশি সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।