১ কোটির ঋণবিতর্ক! ‘সবই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’, সাফাই প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিসের

১ কোটির ঋণবিতর্ক! ‘সবই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’, সাফাই প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিসের

জাঙ্গিপাড়া: কৃষি সমবায় সমিতি থেকে প্রভাব খাটিয়ে কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার অভিযোগে প্রবল বিতর্কে রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। বিষয়টি সামনে আসতেই তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বাধীন দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিশন। যদিও এই পুরো ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে পাল্টা দাবি করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী।

সম্প্রতি হুগলির জাঙ্গিপাড়া বিধানসভার সিংটিগুটি আতড়া বিলাসপুর কৃষি সমবায় সমিতিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তার ভিত্তিতেই বুধবার ওই সমবায় সমিতিতে হানা দেন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিশনের আধিকারিকরা। বাজেয়াপ্ত করা হয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি। উল্লেখ্য, এই দুর্নীতি মামলায় আগেই সমবায়ের ম্যানেজার ও অ্যাকাউন্ট্যান্টকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ (বর্তমানে দু’জনেই জামিনে মুক্ত)।

অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে সমবায়ের চেয়ারম্যান থাকাকালীন পদের প্রভাব খাটিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রায় ১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। নিয়ম অনুযায়ী কেবল স্থানীয় কৃষক ও নির্দিষ্ট গ্রামের বাসিন্দারাই ঋণ পাওয়ার যোগ্য। সে ক্ষেত্রে কোন নিয়মে এই বিশাল অংকের ঋণ মঞ্জুর হলো, তা খতিয়ে দেখছে কমিশন।

তবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে স্নেহাশিসের দাবি, কৃষি সমবায় থেকে ঋণ নিতে গেলে শুধু কৃষক হতে হবে— এমন কোনো নিয়ম নেই। ব্যবসা বা বাড়ি তৈরির কাজের জন্য সাধারণ মানুষকেও সমবায় ঋণ দিয়ে থাকে।

নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী বলেন, “আমি ওই এলাকারই স্থায়ী ভোটার। পাঁচ বছর আগে নিজস্ব পারিবারিক জমি গচ্ছিত রেখে নিয়ম মেনেই ব্যবসার জন্য ১৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিই এবং তা শোধও করি। পরে একই নিয়মে আবার ১৫ লক্ষ টাকা নতুন ঋণ নেওয়া হয়, যার শেষ কিস্তি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই চুকিয়ে দিয়েছি।”

একই সঙ্গে দলীয় সতীর্থদের নাম তুলে তাঁর ক্ষোভ, সংবাদমাধ্যমে কুণাল ঘোষরা ভুল তথ্য ছড়িয়ে তাঁর ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছেন। তবে কমিশনের যেকোনো তদন্তে তিনি সব রকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *