পাসপোর্ট লুকিয়ে বাঁচিয়েছিলেন ৩৭৯ প্রাণ, স্মিতের বীরত্বে আবারও চর্চায় নীরজা ভানোটের আত্মত্যাগ

সাম্প্রতিক ফ্লাইদুবাই বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধিতে ১৭৪ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচার ঘটনা ১৯৮৬ সালের প্যান অ্যাম ৭৩ বিমান হাইজ্যাকের ঐতিহাসিক স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সে সময় করাচি বিমানবন্দরে চার সশস্ত্র জঙ্গি বিমান দখল করলে মাত্র ২২ বছর বয়সী সিনিয়র বিমান কর্মী নীরজা ভানোট চরম সাহসিকতার পরিচয় দেন। তিনি প্রথমেই ককপিট ক্রুদের সতর্ক করে বিমানের আকাশে ওড়া বন্ধ করেন এবং পরবর্তীতে জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তু করা মার্কিন নাগরিকদের বাঁচাতে সহকর্মীদের নিয়ে কৌশলে পাসপোর্ট লুকিয়ে ফেলেন। টানা ১৭ ঘণ্টা বিমানের ভেতর আটকে থাকা ৩৭৯ জন যাত্রী ও ক্রুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি নিরলস লড়াই চালিয়ে যান।
সশস্ত্র হামলার মুখে নিজে আত্মরক্ষা না করে নীরজা আটকে পড়া ছোট ছোট শিশুদের এমার্জেন্সি এক্সিট দিয়ে বের করে দিতে শুরু করেন। এ সময় জঙ্গিদের গুলিতে তিনি প্রাণ হারান, কিন্তু তাঁর এই অদম্য সাহসিকতায় বেঁচে যায় শত শত মানুষের জীবন। এই অনন্য বীরত্বের জন্য তিনি ভারতের সর্বোচ্চ সামরিক মর্যাদা অশোক চক্রের পাশাপাশি পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মরণোত্তর সম্মানে ভূষিত হন। চার দশক পর ককপিটে প্রাণঘাতী লড়াইয়ের মধ্যেও আত্মরক্ষা না করে ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার প্রমাণ করলেন যে, বিপদের মুখে অন্যের জীবন রক্ষা করার ভারতীয় ঐতিহ্য নীরজা ভানোট থেকে আজও সমানভাবে অব্যাহত রয়েছে।