‘ডক্টরেট ভুয়ো, আসাম্ভব ভালো পারফর্মিং আর্টিস্ট!’ মমতাকে নিয়ে তুলকালাম ঋতব্রত

কলকাতা: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে প্রচারের সময় পা জখম হওয়ার ঘটনা নিয়ে ফের শোরগোল শুরু হলো রাজ্য রাজনীতিতে। সে সময় নন্দীগ্রামে চক্রান্ত করে তাঁর পা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সম্প্রতি নন্দীগ্রামের এক প্রচারে বিরোধী শিবির থেকে দাবি করা হয়, সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর পা ভাঙেনি এবং চিকিৎসকদের মেডিকেল রিপোর্টেই নাকি তার প্রমাণ রয়েছে। এই প্রসঙ্গেই এবার একহাত নিলেন রাজনৈতিক নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “২০২১ সালের মার্চ মাসের ঘটনা। তখন স্পেশ্যাল ব্যবস্থা করা হয়েছিল, মঞ্চও আলাদা ছিল। আমিও একাধিক মিটিংয়ে ছিলাম। আজ তো সাংঘাতিক রিপোর্ট সামনে এল! নির্বাচনে জেতার পর ব্যান্ডেজ খোলা হয়েছিল, অথচ হাড়ে বা সফট টিস্যুতে কোনো আঘাতই ছিল না।”
নিজের পুরনো অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, “১৯৯০ সালে আমার হাত ভেঙে গিয়েছিল। গরমে ঘাম হতো, চুলকাতো, ট্যালকম পাউডার দিতে হতো। ওনার পায়ে কি ট্যালকম পাউডার দেওয়া হয়েছিল? প্লাস্টারের স্থায়িত্ব তো দেখা গেল রেজাল্ট ঘোষণা হওয়া অব্দি!” এরপরই প্রশ্ন তোলেন, “গেঁটে বাতের জন্য কি প্লাস্টার হয় নাকি? সেটাই আমাকে অবাক করছে।” সেই সঙ্গে বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সের রিপোর্টের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রাজনীতি নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান ঋতব্রত। তাঁর দাবি, ওনার রাজনীতির পুরো ভিত্তিটাই মিথ্যাচারের ওপর দাঁড়িয়ে। এমনকি তাঁর ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করে ঋতব্রত বলেন, তিনি একাধਾਰেই “আসাম্ভব ভালো পারফর্মিং আর্টিস্ট” এবং “প্যাথলজিক্যাল লায়ার”। ভোট আসলেই তাঁর মুখে হামলার অভিযোগ শোনা যায় বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সের প্রসঙ্গ টেনে রাজ্য সরকারের কাছে তাঁর ব্যঙ্গাত্মক আর্জি, “আমার অনুরোধ, এই কাজের জন্য এবার যেন তাঁকে ‘ধাপ্পাশ্রী’ পুরস্কার দেওয়া হয়!”