তুরস্ক থেকে ড্রাগ মাফিয়া নবপ্রীত সিংকে দেশে ফেরাল মোদী সরকার, বড় সাফল্য তদন্তকারীদের

আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের অন্যতম মূল মাথা তথা ‘কিংপিন’ নবপ্রীত সিংকে তুরস্ক থেকে সফলভাবে ভারতে ফিরিয়ে আনল কেন্দ্র সরকার। মাদক পাচার এবং একাধিক গুরুতর ফৌজদারি মামলায় এবার ভারতেই শুরু হবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই ঘটনাকে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার এক ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুয়া পরিচয় এবং তুরস্কের নাগরিকত্ব ব্যবহার করে বিদেশে লুকিয়ে ছিলেন এই ড্রাগ মাফিয়া। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতীয় গোয়েন্দা ও তদন্তকারী সংস্থাগুলির চোখ ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
কীভাবে ফাঁস হল জালিয়াতি?
এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বে টুইটার) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, ‘নবাব ভির্ক’ নামে সম্পূর্ণ ভুয়া পরিচয় দিয়ে তুরস্কের নাগরিকত্ব নিয়েছিলেন নভপ্রীত। এই ছদ্মবেশের আড়ালেই আফগানিস্তান থেকে ভারতে হেরোইন ও মেথামফেটামিনের মতো মারাত্মক মাদকের বিশাল চালান পাঠাতেন তিনি।
ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তাঁর আসল পরিচয় খুঁজে বের করে এবং তাঁকে দেশে ফেরানোর কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করে। বর্তমানে তাঁকে ভারতের হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হচ্ছে।
কে এই নভপ্রীত সিং?
‘নভ’ নামেও পরিচিত এই অপরাধী ভারত, আফগানিস্তান ও তুরস্ককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি বিরাট আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিল। তুরস্কে বসে সে পুরো চক্র পরিচালনা করত। অন্যদিকে, তার খুড়তুতো ভাই প্রভদীপ সিং ভারতে এই সিন্ডিকেটের অপারেশনাল কাজকর্ম সামলাত।
২০২১ সালে দক্ষিণ দিল্লি থেকে রিজওয়ান কাশ্মীরিকে গ্রেফতারের পরেই এই বিশাল আন্তর্জাতিক চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। এরপর তদন্তের জাল ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এবং সামনে আসে আফগান নাগরিকদের যোগসূত্রও। ফরিদাবাদে অভিযান চালিয়ে একাধিক গাড়ি থেকে প্রায় ২৮১ কেজি (১৬৬ কেজি + ১১৫ কেজি) বিপুল পরিমাণ হেরোইন উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
আজারবাইজান থেকে তুরস্ক: কীভাবে এগোল তদন্ত?
এই মেগা অভিযানের একটি বড় অংশ ছিল প্রভদীপ সিংয়ের প্রত্যর্পণ। মে মাসে আজারবাইজানের বাকু শহরের একটি ফ্ল্যাট থেকে প্রভদীপকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি ছিল।
সিবিআই-এর ‘ভারতপোল’ প্ল্যাটফর্ম, দিল্লি পুলিশ, বিদেশ মন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যৌথ প্রচেষ্টায় আজারবাইজান থেকে তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। ২০২৩ সালে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া প্রভদীপের পর এবার মূল পান্ডা নবপ্রীত সিংকেও দেশে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের কোমর ভেঙে দিল ভারতীয় এজেন্সিগুলি।