৪২ বছর ধরে আটকে পারিবারিক পেনশন! ডিআই ও প্রধান শিক্ষকের বেতন বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের
দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা স্কুল পরিদর্শক (ডিআই–মাধ্যমিক) এবং জয়নগরের ময়দা হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বেতন আটকে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। স্কুল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি এবং ডিআই-এর নিষ্ক্রিয়তার জেরে এই কড়া পদক্ষেপ করেছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
ঠিক কী ঘটেছিল? আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৮৪ সালের ১৯ মার্চ ময়দা হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের এক শিক্ষাকর্মীর মৃত্যু হয়। এরপর ওই বছরই তাঁর স্ত্রীকে সহানুভূতির ভিত্তিতে চাকরি দেওয়া হয়, যিনি ২০১১ সালে অবসর নেন এবং বর্তমানে সাধারণ পেনশন পাচ্ছেন। তবে নিয়ম অনুযায়ী তাঁর স্বামীর পারিবারিক পেনশন পাওয়ার কথা থাকলেও, দীর্ঘ বছর ধরে সেই ফাইল আটকে রাখা হয়। ২০১৮ সালে হাইকোর্ট এই বিষয়ে নির্দেশ দিলেও স্কুল বা ডিআই অফিস কোনো পদক্ষেপ করেনি।
আদালতের কড়া নজর ও পর্যবেক্ষণ: মামলার আইনজীবীরা জানান, ২০১৮ সালে ডিআই স্কুল কর্তৃপক্ষকে এক মাসের মধ্যে নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো ফাইল জমা পড়েনি। ডিআই-এর রিপোর্টেও স্বীকার করা হয়েছে যে প্রধান শিক্ষককে বারবার তাগাদা দিলেও কোনো কাজ হয়নি।
এই ঘটনায় ডিআই-এর ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডিআই এবং প্রধান শিক্ষকের বেতন সম্পূর্ণ বন্ধ (ফ্রিজ) থাকবে। অবিলম্বে সার্ভিস বুক ও পেনশন বুকলেটসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে পারিবারিক পেনشنের ফাইল জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।