আধার ও সার্টিফিকেটের জন্য আর লাইন নয়! বাংলায় শুরু অভিনব ‘পরিচয়’ প্রকল্প

সন্তানের জন্মের পর আধার কার্ড, জন্ম সার্টিফিকেট কিংবা কাস্ট সার্টিফিকেট বানানোর জন্য বারবার সরকারি অফিসে ছোটালুটির দিন এবার শেষ! বিশেষ করে দূরদূরান্তের চা-বাগান এবং গ্রামীণ এলাকার মানুষের এই দুর্ভোগ দূর করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল মালবাজার মহকুমা প্রশাসন। রাজ্যে প্রথম পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে চালু হলো ‘পরিচয়’ (Parichay Project)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এখন হাসপাতাল থেকেই শুরু হবে শিশুর সমস্ত জরুরি নথি তৈরির কাজ, যা পরবর্তীতে সরাসরি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
কী এই ‘পরিচয়’ প্রকল্প এবং কীভাবে কাজ করবে?
জলপাইগুড়ির মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পোস্ট অফিসের কর্মী উপস্থিত থাকবেন। শিশুর আধার কার্ড তৈরির জন্য হাসপাতালেই এনরোলমেন্ট করা হবে। সাধারণত আধার নম্বর তৈরি হতে ৭ দিন সময় লাগে। নম্বর তৈরি হয়ে গেলে তা নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত বা পুরসভাকে জানানো হবে। এরপর পঞ্চায়েত বা পুরসভার কর্মীরা কাস্ট সার্টিফিকেটের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে সরাসরি শিশুর বাড়িতে পৌঁছে যাবেন।
২১ দিনেই মিলবে সমস্ত নথি
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশু জন্মের পর হাসপাতালেই জন্ম সার্টিফিকেটের ফর্ম পূরণ করা হবে। এর ফলে অভিভাবকদের আলাদা করে বিভিন্ন অফিসে ঘুরে সময় নষ্ট করতে হবে না। প্রশাসনের লক্ষ্য, শিশুর জন্মের ২১ দিনের মধ্যে আধার কার্ড, জন্ম সার্টিফিকেট এবং কাস্ট সার্টিফিকেট তার পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়া। কোনও কারণে যদি একটু বিলম্ব হয়, তবে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পুরো কাজের জন্য একটি বিশেষ অ্যাপ ও তথ্যভিত্তিক পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে।
মালবাজারের মহকুমা শাসক উৎকর্ষ খন্ডালের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগে উপকৃত হবেন বহু সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের সুবিধা এই প্রথম চালু হলো।