সৌদি আরামকোতে ভয়াবহ আগুন! ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চাঞ্চল্যকর দাবি হুথিদের

সৌদি আরামকোতে ভয়াবহ আগুন! ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চাঞ্চল্যকর দাবি হুথিদের

মধ্যপ্রাচ্যে ফের চরমে উঠল উত্তেজনার পারদ। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী সংস্থা সৌদি আরামকো (Saudi Aramco)-র একটি তেল পরিশোধন কেন্দ্রের কাছে ভয়াবহ আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেল আকাশ। ঘটনার পরেই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।

ঘটনাস্থলে দমকল ও নিরাপত্তা বাহিনী

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে আরামকোর কেন্দ্রের আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যেতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘রয়টার্স’-এর এক প্রত্যক্ষদর্শীও ওই কেন্দ্রের কাছে বড় আকারের আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখার কথা নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, ‘এএফপি’-র এক সাংবাদিক ঘটনাস্থলে একাধিক দমকলের ইঞ্জিনকে আগুন নেভানোর লড়াই চালাতে দেখেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্স ও পুলিশের বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

কী দাবি হুথিদের?

হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে, রিয়াধের প্রধান তেল কেন্দ্রকে লক্ষ্য করেই এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে এবং হামলার পরেই সেখানে আগুন ধরে যায়। হুথিদের দাবি, সম্প্রতি ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন এলাকায় সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর তীব্র বিমান হামলার ‘পাল্টা জবাব’ হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। হুথি-সমর্থিত ‘আল-মাসিরাহ’ টিভি চ্যানেলের দাবি, সানায় সৌদি বিমান হামলায় একাধিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরই সৌদি তেল পরিকাঠামোকে নিশানা করা হয়েছে।

সৌদি জোটের প্রতিক্রিয়া ও ধোঁয়াশা

যদিও হুথিদের এই সমস্ত দাবিকে সম্পূর্ণ ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি। পাশাপাশি, সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বা আরামকো কর্তৃপক্ষের তরফে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে রিয়াধের এই অগ্নিকাণ্ডটি সরাসরি কোনো শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার কারণেই ঘটেছে কি না, তা নিয়ে এখনও সম্পূর্ণ নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি। তবে এই আকস্মিক ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ও চরম উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *