তেলের বাজারে বড় ধাক্কা! উৎপাদন না বাড়ানোর সিদ্ধান্তে কী ফের মহার্ঘ হতে চলেছে পেট্রোল?

নতুন দিল্লি: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম হু-হু করে বাড়লেও এখনই তেল উৎপাদন বাড়ানোর রাস্তায় হাঁটল না ওপেক প্লাস (OPEC+) ভুক্ত দেশগুলি। এর জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ে ফের উদ্বেগ বাড়ল। তবে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার আসরে নেমেছে G-7 দেশগুলি।
নভেম্বরেও অপরিবর্তিত থাকছে উৎপাদন ওপেক প্লাস গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলি— যেমন সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া এবং ওমান— বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, নভেম্বর মাসেও তেল উৎপাদন বাড়ানো বা কমানো হবে না। অর্থাৎ, বাজারে তেলের সরবরাহ বর্তমানে যেমন রয়েছে তেমনই বজায় থাকবে। বাজারের গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনা করতে আগামী ১ নভেম্বর ফের বৈঠকে বসবে এই গোষ্ঠী। আপাতত এক মাস উৎপাদন না বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে জল্পনা শুরু হয়েছে।
কেন বাড়ছে তেলের দাম? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির মূল কারণ আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত। এই উত্তেজনার জেরে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যার জেরে আকাশচুম্বী হয়েছে জ্বালানির দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া এক বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
G-7 দেশগুলির বড় পদক্ষেপ পরিস্থিতি সামাল দিতে আমেরিকা, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং জাপানের মতো ধনী দেশগুলির জোট G-7 এক বড় ঘোষণা করেছে। আগামী সপ্তাহ থেকেই তারা জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও জ্বালানি পণ্য বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। যার প্রথম ধাপে ছাড় দেওয়া হবে ডিজেল।
ভারতের বাজারে এর প্রভাব কী? ভারত তার মোট জ্বালানি প্রয়োজনের সিংহভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম বাড়লে তেল শোধন ও আমদানির খরচ বেড়ে যায়। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে ভারতের খুচরো পেট্রোল-ডিজেলের দামের সরাসরি সমীকরণ একটু জটিল। ক্রুডের দাম ছাড়াও পেট্রোল-ডিজেলের দামের ক্ষেত্রে আমদানি খরচ, শোধন ও পরিবহণ চার্জ, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন কর এবং তেল শোধনকারী সংস্থাগুলির মার্জিন বড় ভূমিকা পালন করে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেই ভারতে সঙ্গে সঙ্গে পেট্রোল মহার্ঘ হবে— এমন সরলীকরণ না করাই ভালো।