হুথিদের রুখতে বড় সিদ্ধান্ত! সৌদির সাহায্যে দ্রুত সেনা পাঠাচ্ছে পাকিস্তান ও তুরস্ক

রিয়াদ: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের মোড়। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লাগাতার হামলা সামলাতে এবার সরাসরি সামরিক সহায়তা পাচ্ছে সৌদি আরব। রিয়াদের সুরক্ষায় দ্রুত সেনা পাঠাতে চলেছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। আগস্ট মাসে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার রিয়াদে তিন দেশের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নিয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সহ তিনটি দেশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, যে কোনো সামরিক হুমকি মোকাবিলায় তিন দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম এবং সেনা সৌদি আরবে মোতায়েন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কী এই ‘মক্কা চুক্তি’? গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল শর্ত হলো—তিনটি দেশের যেকোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুটি দেশ তাকে পূর্ণ সামরিক সহায়তা প্রদান করবে।
এই জোটের গুরুত্ব অপরিসীম। তুরস্কের রয়েছে ন্যাটো (NATO)-র দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী, অন্যদিকে পাকিস্তান হলো মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পরমাণু শক্তিধর দেশ। তাদের সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের এই সামরিক জোট আঞ্চলিক শক্তিসমী করণকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে।
হঠাৎ কেন এই পদক্ষেপ? সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সেপ্টেম্বরে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর হাত থেকে বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয় হুথিরা। এরপর থেকেই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ শহর, তেল পরিকাঠামো এবং লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের রুটে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা।
পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক আকার ধারণ করায় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কত সংখ্যক সেনা সৌদি আরবে পাঠানো হবে এবং কৌশলগতভাবে তাদের কী ভূমিকা থাকবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।