পুজোর মুখেই চাকা বন্ধ! ই-রিকশার দাপটে তুফানগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, স্তব্ধ পরিষেবা

তুফানগঞ্জ: উৎসবের মরশুমের শুরুতেই উত্তরবঙ্গে তৈরি হলো বড়সড় পরিবহন সংকট। জাতীয় সড়কে বেআইনিভাবে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা ও টোটোর দাপটের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিল তুফানগঞ্জ মহকুমা বাস ড্রাইভার ইউনিয়ন। সোমবার সকাল থেকেই তুফানগঞ্জে স্তব্ধ বেসরকারি বাস পরিষেবা, যার সরাসরি প্রভাবে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা।
কেন এই আচমকা ধর্মঘট? বাস চালক ও মালিকদের মূল অভিযোগ, জাতীয় সড়কে নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে অবাধে চলাচল করছে ই-রিকশা ও টোটো। ফলে বাসের যাত্রীসংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গিয়ে আয় তলানিতে ঠেকেছে। প্রতিদিনের জ্বালানি খরচ ও গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ মেটানোর পর চালক বা মালিকদের হাতে কানাকড়িও থাকছে না; উল্টে মাথার ওপর দিন দিন বাড়ছে ঋণের বোঝা।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ: আন্দোলনকারী চালকদের দাবি, জাতীয় সড়কে ই-রিকশা ও টোটো চলাচলের ওপর আদালতের নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রশাসন মাঝেসাঝে দু-একটি অভিযান বা মাইকিং করে হাত গুটিয়ে নেয়, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। পুজোর মুখে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার ফলেই তাঁরা এই চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, প্রশাসন লিখিত আশ্বাস ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চাকা ঘুরবে না।
যাত্রী ভোগান্তি চরমে: সোমবার সকাল থেকেই বেসরকারি বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দূরপাল্লার যাত্রী এবং অফিসযাত্রীদের দুর্গতির শেষ নেই। আসাম থেকে কোচবিহার ও শিলিগুড়িগামী একাধিক বাসকে পথ ঘুরিয়ে চালনা করায় বিপাকে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীরাও। স্ট্যান্ডে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গন্তব্যে পৌঁছানোর বিকল্প যানবাহন না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ।