রেজিনগরে উপনির্বাচনে চরম নাটকীয়তা! ‘ভোট লুটে’র তোপ দেগে গ্রেপ্তার হুমায়ুন কবীর

রেজিনগরে উপনির্বাচনে চরম নাটকীয়তা! ‘ভোট লুটে’র তোপ দেগে গ্রেপ্তার হুমায়ুন কবীর

রেজিনগর: বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতেই চরম উত্তেজনা ছড়াল রেজিনগরে। নির্বাচনী বিধিভঙ্গ এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নিজের বুথে ভোট দেওয়ার পরেই সোচ্চার হন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগ, রেজিনগরের একাধিক বুথে তাঁর দলের পোলিং এজেন্টদের বাধা দিচ্ছে পুলিশ ও বিজেপি। রাজ্য প্রশাসন ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়ে ‘ভোট লুট’-এর অভিযোগ তোলেন তিনি।

দলীয় কার্যালয়ে হানা ও পুলিশের সাথে বচসা

ভোট দেওয়ার পর রেজিনগরে দলের কার্যালয়ে চলে যান হুমায়ুন কবীর। অভিযোগ ওঠে, সেখানে বসেই তিনি বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ও হিংসায় প্ররোচনা দিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে রেজিনগর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অঞ্জন বর্মনের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী সেখানে পৌঁছায়।

পুলিশ তাঁকে দলীয় অফিস ছেড়ে বাড়িতে চলে যেতে বললে তিনি তা অস্বীকার করেন। এর পরেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পুলিশকে লক্ষ্য করে হুমায়ুন কবীর চিৎকার করে বলেন, “দালালি করবেন না, দালালি করবেন না!”

টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তোলা হয় বিধায়ককে

তর্কাতর্কি একপর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত জামা ধরে টেনে-হিঁচড়ে হুমায়ুন কবীরকে গাড়িতে তোলে পুলিশকর্মীরা। গাড়িতে ওঠার সময় হুমায়ুন বলেন, “আমাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, না আটক করা হচ্ছে— আমি কিছুই জানি না।” প্রথমে তাঁকে রেজিনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

প্রশাসন ও পুলিশের বক্তব্য

বেলডাঙার এসডিপিও (SDPO) আনন্দজিৎ হোড় স্পষ্ট জানান, “হুমায়ুন কবীর আইনভঙ্গ করেছেন, তাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” এলাকা শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে, পুরো ঘটনার ওপর নজর রেখে রাজ্য সিইও (CEO) দফতর রিপোর্ট তলব করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *