‘ভোট চোর’ স্লোগানে কাঁপল দিল্লি! ব্যারিকেড ভেঙে নির্বাচন সদন অভিযানে ‘ইন্ডিয়া’ জোট

নয়াদিল্লি: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে সরগরম দেশের রাজনীতি। সোমবার সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন সদন (নির্বাচন কমিশন সদর দফতর) অভিমুখে প্রতিবাদ মিছিলে নামল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক শীর্ষনেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
রাস্তায় অবস্থান ধরনা ও আটক শীর্ষ নেতারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়ে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ১৪০ জনেরও বেশি সাংসদ সংসদ ভবন থেকে মিছিল শুরু করেন। নির্বাচন ভবনের প্রায় ৪০০ মিটার আগেই পুলিশ বিশাল ব্যারিকেড তৈরি করে তাঁদের পথ আটকায়। এর প্রতিবাদে আকাশবাণী ভবনের বাইরে রাস্তার ওপরই অবস্থান ধরনায় বসে পড়েন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের সামনে ‘ভোট চোর’ স্লোগান তুলতে থাকেন সাংসদরা। সমাজবাদী পার্টির তরুণ সাংসদ ধর্মেন্দ্র যাদব সহ বেশ কয়েকজন ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের আটক করে পুলিশ।
নিরাপত্তার আঁটোসাঁটো বলয় ও ট্রাফিক সতর্কতা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নয়াদিল্লি জুড়ে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ৩,০০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) মোতায়েন করা হয়। নয়াদিল্লি এলাকার ডিসিপি সচিন শর্মা সহ ডিউটিতে থাকা পুলিশ কর্তারা বডি ক্যামেরা পরে নজরদারি চালান। নিরাপত্তার স্বার্থে অশোকা রোড, কনট প্লেস, প্যাটেল চক ও উইন্ডসর প্লেস সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল ঘুরিয়ে দিয়ে ট্রাফিক অ্যাডভাইজারি জারি করেছে দিল্লি পুলিশ।
‘জ্ঞানেশ কুমার দেশের শত্রু’: সঞ্জয় রাউতের তোপ মিছিলে যোগ দিয়ে শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ সঞ্জয় রাউত বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ নিরস্ত্র অবস্থায় নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চাইতে যাচ্ছিলাম। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার দেশের শত্রু, তাই তাঁকে অবিলম্বে ইস্তফা দিতে হবে।”
মিছিল থেকে দূরত্ব বাড়াল আম আদমি পার্টি (AAP) বিরোধী জোটের বেশিরভাগ দল এই কর্মসূচিতে শামিল হলেও গা বাঁচিয়ে চলেছে আম আদমি পার্টি। আপ-এর রাজ্যসভা সাংসদ সঞ্জয় সিং জানিয়েছেন, এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত এই প্রতিবাদকে তাঁরা জাতীয় আন্দোলন মনে করলেও ইন্ডিয়া জোটের এই নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে আপ অংশ নিচ্ছে না। তাঁরা নিজেদের মতো করে এই লড়াই চালিয়ে যাবে।