দীপাবলির আগেই বড় উদ্বেগের খবর! দূষণ ও যানজটের আসল ‘খলনায়ক’ কারা? ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য

দীপাবলি ও ছট পুজো একদম দোরগোড়ায়। চারদিকে যখন উৎসবের আমেজ, তখনই সামনে এল এক দুশ্চিন্তার ছবি। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রতি বছর এই সময়ে দেদার বাজি ফাটে, যার জেরে দিল্লি-এনসিআর সহ উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা ধোঁয়াশার ঘন চাদরে ঢেকে যায়। শ্বাস নেওয়াই দায় হয়ে ওঠে কোটি কোটি মানুষের। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বারবার ‘কার পুলিং’ ও বাস-ট্রেনের মতো গণপরিবহন ব্যবহারের আর্জি জানায়। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটা কতটা ভিন্ন, তা সপ্রমাণ প্রকাশ করল সাম্প্রতিক এক সরকারি সমীক্ষা।
মাত্র ১৫ শতাংশ কর্মী ব্যবহার করেন গণপরিবহন
ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্স অফিস (NSO)-এর প্রথম ‘ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ট্রাভেল সার্ভে’ (NHTS)-র রিপোর্ট বলছে, দেশে মাত্র ১৫ শতাংশ কর্মজীবী মানুষ বাস, ট্রেন, ট্রাম বা অটো-রিকশার মতো গণপরিবহনে চেপে অফিসে যান। বাকিদের সিংহভাগই ব্যক্তিগত যানবাহনের উপর নির্ভরশীল।
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী:
- দু’চাকার গাড়ির দাপট: দেশের ৪৩ শতাংশ কর্মী প্রতিদিন স্কুটার বা মোটরসাইকেল চেপে কর্মস্থলে যান। শহরাঞ্চলে এই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩ শতাংশে।
- চারচাকা গাড়ি: গড়ে ৩ শতাংশ মানুষ গাড়িতে যান (শহরে যা ৫.৭ শতাংশ)। সব মিলিয়ে প্রায় ৪৬ শতাংশ কর্মজীবী ব্যক্তিগত দু’চাকা বা চারচাকা গাড়ি ব্যবহার করেন।
- রাজ্যের তুলনা: গাড়ি বা বাইক ব্যবহারের দৌড়ে রাজধানী দিল্লিকেও টেক্কা দিয়েছে গোয়া ও পাঞ্জাব।
দ্বিতীয় জনপ্রিয় মাধ্যম ‘হাঁটা’
অবাক করার মতো হলেও সত্যি, ভারতে অফিসে পৌঁছনোর দ্বিতীয় জনপ্রিয় মাধ্যম হল হাঁটা। মোট ২৮.৩ শতাংশ কর্মী হেঁটে কর্মস্থলে পৌঁছান। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় হেঁটে যাতায়াতকারীর হার ৩৬ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ১৪ শতাংশ। এছাড়া, প্রায় ১০.৭ শতাংশ মানুষ সাইকেল ব্যবহার করে থাকেন।
যাতায়াতে খরচ ও সময়
২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া এই সমীক্ষায় ১ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের যাতায়াতকে ধরে হিসাব করা হয়েছে। এতে দেখা যায়:
- সময়: একজন কর্মীর অফিসে পৌঁছতে গড়ে সময় লাগে ২৫ মিনিট (শহরে ২৭ মিনিট, গ্রামে ২৩ মিনিট)। সকাল ১০টার আগেই প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ বাড়ির বাইরে বেরিয়ে পড়েন।
- খরচ: যাতায়াত বাবদ কর্মীরা মাসে গড়ে ৭৮৫ টাকা খরচ করেন। পুরুষদের গড় খরচ ৮৩৫ টাকা হলেও মহিলাদের ক্ষেত্রে এই খরচ মাত্র ৫৩৩ টাকা।
পড়ুয়াদের যাতায়াতের চিত্র
শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রটি আবার কর্মীদের থেকে বেশ আলাদা। প্রায় ৩৭ শতাংশ স্কুল-কলেজের পড়ুয়া হেঁটে যাতায়াত করে। বাস ব্যবহার করে ২৯.৫ শতাংশ এবং সাইকেলে যায় ১৫.৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে গড় যাত্রার সময় ২৩ মিনিট এবং প্রায় ৮৮ শতাংশ পড়ুয়া আধ ঘণ্টার মধ্যে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে যায়।
সমস্যার সমাধান কোথায়?
NSO-এর মতে, এই সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থার খামতিগুলো চিহ্নিত করা, নতুন রুট তৈরি করা এবং সরকারি পরিবহনের সংখ্যা বাড়ানো। সমীক্ষাই স্পষ্ট করছে যে, গণপরিবহনের সঠিক পরিকাঠামো না থাকা ও সচেতনতার অভাবে রাস্তায় প্রতিদিন হাজার হাজার ব্যক্তিগত গাড়ি নামছে। ফলে একদিকে যেমন তৈরি হচ্ছে ভয়াবহ যানজট, তেমনই বায়ুদূষণের মাত্রাও বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে। অবিলম্বে গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও শক্তিশালীকরণ না করা গেলে আগামী দিনে এই যানজট ও বিষাক্ত বাতাস ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।