পাঁচ দশকের ‘লাল ত্রাস’ অতীত! কীভাবে ভারত আজ সম্পূর্ণ নকশালমুক্ত?

নয়া দিল্লি: দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক পর অভিশাপ মুক্ত হলো ভারত। যে ‘লাল ত্রাস’ একসময় দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি ছিল, আজ তা পুরোপুরি অতীত। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে এখন আর একটি জেলাও মাওবাদী বা নকশাল উপদ্রুত নয়।
রক্তক্ষয়ী ইতিহাস ও সেই বিভীষিকাময় দিনগুলি ১৯৬৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্র গ্রাম নকশালবাড়ি থেকে যে আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে দেশের মধ্যভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। পরবর্তী প্রায় ৫০ বছর ধরে মাওবাদী হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও দেশের বীর জওয়ানেরা। একের পর এক সরকার বদলালেও এই রক্তক্ষয়ী সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান বের হয়নি।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা চরমে পৌঁছায় ২০১০ সালের এপ্রিলে। ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়ায় সিআরপিএফ (CRPF)-এর টহলদার বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৭৬ জন জওয়ানকে নৃশংসভাবে হত্যা করে মাওবাদীরা। ২০১৪ সাল নাগাদ অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে দেশের প্রায় ১২৬টি জেলা মাওবাদী উপদ্রুত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়।
মোদী সরকারের জোড়া ফলা: নিরাপত্তা ও বিকাশ ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর এই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী কৌশল গ্রহণ করে নরেন্দ্র মোদী সরকার। মাওবাদ দমনে কেবল বন্দুকের লড়াই নয়, গ্রহণ করা হয় দ্বিমুখী নীতি:
- কঠোর নিরাপত্তা অভিযান: গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং আধুনিক অস্ত্রের শক্তিতে মাওবাদীদের শক্তঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া।
- উন্নয়নের আলো: মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলিতে রাতারাতি রাস্তাঘাট নির্মাণ, পাকা স্কুল তৈরি, মোবাইল টাওয়ার বসানো এবং ব্যাঙ্ক ঋণের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।
যে সমস্ত দুর্গম অঞ্চলে একসময় সরকারের কোনো অস্তিত্বই ছিল না, সেখানে উন্নয়নের জোয়ার আনিয়ে নকশালদের মাটি শক্ত করার সুযোগ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইতিহাস সৃষ্টি ও লাল সন্ত্রাসের অন্ত নিরাপত্তা ও সুশাসনের এই যুগ যুগান্তকারী মেলবন্ধনের ফল মিলেছে হাতেনাতে। গত ৩০ মার্চ দেশের সংসদে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বড় ঘোষণা করে জানান, ভারতের কোনো জেলাই আর নকশাল-উপদ্রুত তালিকার অধীনে নেই।
পাঁচ দশক ধরে চলা নকশাল আন্দোলনের এই স্থায়ী অবসান ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।