‘উন্নয়নে ভেদাভেদ নয়!’ অন্নপূর্ণা যোজনায় ২৪ লক্ষ মুসলিম মহিলা পাচ্ছেন টাকা, উপনির্বাচনের দিন বড় পরিসংখ্যান প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের ভোটের দিনই রাজ্য সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধীদের ‘সাম্প্রদায়িক রাজনীতির’ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা কোনো ধর্মভিত্তিক ভেদাভেদ ছাড়া রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের মহিলাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে। এই প্রকল্পে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মুসলিম মহিলা সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।
উপনির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংকের পাশাপাশি এবার তাদের সমর্থনে যুক্ত হয়েছে সাধারণ মানুষের বিপুল আস্থা। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর এলাকায় অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ৭০ হাজার উপভোক্তা রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজারই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মহিলা।
বিরোধীদের কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সংখ্যালঘু মহিলাদের প্রতিনিয়ত ভয় দেখানো হয়েছিল যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মুসলিমরা সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। কিন্তু বাস্তব ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা।” পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্যজুড়ে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ মোট সুবিধাভোগীর মধ্যে ২৪ লক্ষেরও বেশি হলেন মুসলিম মহিলা।
উল্লেখ্য, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলাদের আর্থিক স্বাবলম্বী করে তুলতে এই প্রকল্পের অধীনে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসেই দেড় কোটিরও বেশি নারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই অর্থ জমা পড়েছে।
ভোটের সমীকরণ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, “সংখ্যালঘু সমাজের তরুণ প্রজন্ম এবং মহিলারা এবার আমাদের উন্নয়নমূলক নীতিতে আস্থা রেখে ভোট দিয়েছেন। বাম ও তৃণমূলের এই দুই কেন্দ্রে কোনো অস্তিত্বই নেই।” প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন ভাবনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা মোদীজির সৈনিক। উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা কোনো ভেদাভেদ করি না। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক সমানভাবে উন্নয়নের সুফল পাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও পাবেন।”