চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল জয়ের পেছনে এবার এক ভারতের কৃতি সন্তানের হাত!

চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কারের ঝুলিতে স্থান পেয়েছে ‘অপটোজেনেটিক্স’ এবং ‘লাইট-গেটেড আয়ন চ্যানেল’ সংক্রান্ত যুগান্তকারী গবেষণা। তবে বিশ্বমঞ্চের এই সাফল্যের নেপথ্যে উঠে এসেছে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) অধ্যাপক সুনীল কাটেরিয়ার নাম। ২০০১ সালে জার্মানিতে ডক্টরেট করার সময় পিটার হেগেম্যানের গবেষণাগারে সুনীলই প্রথম এককোষী শৈবালের জিন-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ‘চ্যানেলরোডপসিন-১’ ও ‘চ্যানেলরোডপসিন-২’ নামের দুটি আলো-সংবেদনশীল প্রোটিন শনাক্ত করেছিলেন। মস্তিষ্কহীন ক্ষুদ্র শৈবাল কীভাবে আলোর দিক পরিবর্তন করে— এই মৌলিক অনুসন্ধানের ফলস্বরূপ যে নোবেলজয়ী আবিষ্কার, নোবেল কমিটির নথিতেও সেই গবেষণাপত্রের সহ-লেখক হিসেবে সুনীলের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে।
সুদীর্ঘ ২৫ বছরের ধৈর্যশীল বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার ফসল এই আবিষ্কার বর্তমানে আলোর সাহায্যে মস্তিষ্কের সুনির্দিষ্ট কোষ সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করতে ব্যবহৃত হচ্ছে। নিজের এই অভূতপূর্ব অবদান প্রসঙ্গে অত্যন্ত বিনীত অধ্যাপক কাটেরিয়া জানান, এটি একটি যৌথ প্রচেষ্টা ছিল এবং শৈবালের আলো শনাক্তকরণের সাধারণ প্রশ্ন থেকেই শুরু হয়েছিল এই গবেষণা। তিনি কখনোই ভাবেননি যে তাঁদের এই অনুসন্ধান একদিন মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসায় এমন বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। নোবেলজয়ী পিটার হেগেম্যানের পর্যালোচনা-নিবন্ধেও সুনীলের এই যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানের ইতিহাসে ভারতের এক গর্বোজ্জ্বল মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল।