দশহাতের মূর্তি নেই, সিঁদুর মাখা লাল পাথরকেই দুর্গারূপে আরাধনা! কেমন হয় লোধা-শবরদের পুজো?

জাঁকজমক বা দশহাতের মৃন্ময়ী প্রতিমা ছাড়াই শারদোৎসবে মেতে ওঠেন ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইলের পাথরকাটি গ্রামের লোধা-শবর সম্প্রদায়ের মানুষ। এখানে পুজোর মূল আকর্ষণ কোনো প্রতিমা নয়, বরং সিঁদুর মাখা একটি লাল পাথরকেই দেবী জয়চণ্ডী তথা দুর্গারূপে আরাধনা করা হয়। নিয়মনিষ্ঠা, ঢাকের বাদ্যি আর ভক্তদের সমাগমে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির চত্বর। মহাসমারোহে চলা এই তিনদিনের পুজো ঘিরে বসে মেলা, যেখানে ঝাড়গ্রাম ছাড়াও প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকেও বহু ভক্তের সমাগম ঘটে। বছরের ৩৬৫ দিনই দেবীর নিত্যপুজোর দায়িত্ব থাকে এই জনজাতির মানুষের হাতেই।
এই অনন্য পুজোর নেপথ্যে রয়েছে শতবর্ষের প্রাচীন লোকবিশ্বাস ও কিংবদন্তি। স্থানীয় লৌকিক ধর্মবিশ্বাসের প্রতীক রাম লোধা গভীর জঙ্গলে শিকারে গিয়ে দেবী জয়চণ্ডীর স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তাঁর নির্দেশ মেনেই বংশপরম্পরায় এই পুজোর সূচনা হয়। আজও সেই ঐতিহ্য অটুট রেখে রাম লোধার উত্তরসূরি ও স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে এই পূজানুষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছেন। আধুনিক মার্বেল পাথরের মন্দিরে অধিষ্ঠিত এই দেবীর কাছে মানত করলে মনস্কামনা পূর্ণ হয় বলেই বিশ্বাস ভক্তদের।