ইএমআই-এর বড় ধাক্কা! ৩ বছর পর রেপো রেট বাড়াল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, মহার্ঘ হচ্ছে গৃহঋণ

ইএমআই-এর বড় ধাক্কা! ৩ বছর পর রেপো রেট বাড়াল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, মহার্ঘ হচ্ছে গৃহঋণ

ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি তেলের চড়া দাম এবং বিশ্বজুড়ে চলা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সামাল দিতে কড়া সিদ্ধান্ত নিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)। দীর্ঘ তিন বছর পর মূল নীতিগত রেপো রেট (Repo Rate) ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫ শতাংশ করল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায়; ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়ার পাশাপাশি ফ্লোটিং-রেটের গৃহঋণগ্রহীতাদের ওপর নতুন করে আর্থিক চাপ তৈরি হতে চলেছে। তবে ঋণের খরচ বাড়লেও, ফিক্সড ডিপোজিট বা স্থায়ী আমানতে সুদের হার বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বুধবার আরবিআই-এর গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে গিয়ে জানান, বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি বেশ চ্যালেঞ্জিং। গত বছরের তুলনায় মুদ্রাস্ফীতির ভবিষ্যৎ চিত্র খুব একটা অনুকূল নয়। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন ত্রৈমাসিকে হেডলাইন সিপিআই (CPI) মুদ্রাস্ফীতি গড়ে প্রায় ৫.৮ শতাংশ এবং চলতি অর্থবর্ষে কোর মুদ্রাস্ফীতি ৪.৪ শতাংশ থাকতে পারে। ফলে বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা করতেই সুদের হার পুনর্বিন্যাস করা অনিবার্য হয়ে পড়েছিল।

শুধু সুদের হার বাড়ানোই নয়, আরবিআই তাদের নীতিগত অবস্থানও ‘নিরপেক্ষ’ (neutral) থেকে বদলে ‘পরিমিত কঠোরকরণ’ বা ‘ক্যালিব্রেটেড টাইটেনিং’ (calibrated tightening)-এ নিয়ে গিয়েছে। ২০১৮ সালের পর এই প্রথমবার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এই পরিভাষাটি ব্যবহার করল। এর মাধ্যমে ইঙ্গিত স্পষ্ট যে, ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বাড়তে পারে। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, চলমান প্রক্রিয়ায় সুদের হার আরও ৫০ থেকে ৭৫ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গভর্নরও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, নিকট ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর কোনো পথ খোলা নেই; পরিস্থিতি অনুযায়ী হার আরও বাড়ানো হবে অথবা বর্তমান স্তরেই স্থির রাখা হবে।

ঋণগ্রহীতা ও সঞ্চয়কারীদের ওপর প্রভাব

রেপো রেট বৃদ্ধির ফলে ব্যাঙ্কগুলি ‘রিসেট মেকানিজম’-এর মাধ্যমে দ্রুত নতুন সুদের হার কার্যকর করবে, যার ফলে খুচরো ঋণের মাসিক কিস্তি (EMI) অথবা ঋণের মেয়াদ বেড়ে যাবে।

বিশেষজ্ঞদের হিসেব অনুযায়ী, ২৫ বছর মেয়াদী ৭.৫ শতাংশ সুদের হারের ঋণের ক্ষেত্রে ইএমআই পরিবর্তন হতে পারে নিম্নরূপ:

  • ৩০ লক্ষ টাকার ঋণ: মাসিক কিস্তি বাড়তে পারে প্রায় ৪৯০ টাকা।
  • ৪০ লক্ষ টাকার ঋণ: মাসে অতিরিক্ত গুনতে হতে পারে প্রায় ৬৫৪ টাকা।
  • ৫০ লক্ষ টাকার ঋণ: মাসিক ইএমআই বাড়তে পারে প্রায় ৮১৭ টাকা পর্যন্ত।

ঋণগ্রহীতাদের উদ্বেগ বাড়লেও সাধারণ সঞ্চয়কারীদের জন্য কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। বিশেষ করে ১ কোটি টাকার নিচের আমানত বা ফিক্সড ডিপোজিটে ব্যাঙ্কগুলি আগের চেয়ে ভালো রিটার্ন বা সুদের হার দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *