নানা পাটেকরের প্রয়াণে মুখ খুললেন তনুশ্রী, ‘সমবেদনা জানাই, তবে…’ বার্তা ঘিরে তোলপাড় নেটপাড়া

নানা পাটেকরের প্রয়াণে মুখ খুললেন তনুশ্রী, ‘সমবেদনা জানাই, তবে…’ বার্তা ঘিরে তোলপাড় নেটপাড়া

বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণে যখন বলিউডসহ সমগ্র দেশ শোকস্তব্ধ, ঠিক তখনই সবার নজর আটকে ছিল অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্তের দিকে। ২০১৮ সালে ভারতে ঝড় তোলা ‘মি টু’ (Me Too) আন্দোলনের দুই মূল মুখ ছিলেন তাঁরা। নানা পাটেকরের প্রয়াণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করেছেন তনুশ্রী। যেখানে একদিকে যেমন প্রয়াত অভিনেতার পরিবারের প্রতি সমবেদনা রয়েছে, তেমনই প্রকাশ পেয়েছে তাঁর কাজের ব্যস্ততা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব।

বৃহস্পতিবার সকালে নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর ছড়াতেই তনুশ্রীর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ঘিরে কৌতূহল বাড়তে থাকে। সকালে প্রথমে মা দুর্গার একটি ছবি পোস্ট করে দেবী দর্শনের অনুভূতি জানান তিনি। হিন্দিতে লেখেন, “একটি সোনালি ছায়া আমার সঙ্গে হাঁটে, যা আমি মন্দিরগুলো থেকে অর্জন করেছি।” এর পরপরই বিমানবন্দরে হেঁটে যাওয়ার সময় এবং ব্রাঞ্চে স্যান্ডউইচ খাওয়ার বেশ কিছু সেলফি ভিডিও আপলোড করেন অভিনেত্রী।

ভিডিওর একপর্যায়ে খবরটি নিয়ে মুখ খুলে তনুশ্রী বলেন, “আমি খবরটা পেয়েছি। আজ আমার একটা কাজের দিন। লখনউতে আমার খুব বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি ইভেন্ট রয়েছে, তাই আমি কাজেই মন দিতে চাই। তবে সবকিছুর জন্য দিনটা কী অদ্ভুত! সারা দিন লাইভ করার ও কনটেন্ট পোস্ট করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এখন চিন্তায় পড়ে গেলাম, কারণ সন্ধ্যাবেলায় সংবাদমাধ্যম এই প্রয়াণের খবর ছাড়া অন্য কিছুতে নজর দেবে না। তাই পরিস্থিতি বুঝে নিয়েই আমার চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া দেব। পরিবারকে সমবেদনা জানাই, কিন্তু…”— ঠিক এই জায়গাতেই আচমকা ভিডিওটি কেটে যায়।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওক প্লিডজ’ (Horn ‘Ok’ Pleassss) ছবির শুটিং সেটে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন তনুশ্রী। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে তনুশ্রীর এই সাহসী পদক্ষেপই ভারতে কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থার বিরুদ্ধে ‘মি টু’ আন্দোলনের সূচনা করে।

তনুশ্রীর দাবি ছিল, ২০০৮ সালেই তিনি ‘সিনে অ্যান্ড টিভি আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’ (CINTAA)-র কাছে নানার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, তবে সেসময় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হলেও নানা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। প্রমাণের অভাবে ২০১৯ সালে পুলিশ মামলা বন্ধ করে দেয় এবং ২০২৫ সালে মুম্বইয়ের আন্ধেরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আইনি সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার কারণে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করে দেয়। অতীতের সেই তিক্ত সংঘাত পেরিয়ে নানা পাটেকরের মৃত্যুর দিনে তনুশ্রীর এই আসামাপ্ত ও রহস্যময় বার্তা এখন সমাজমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *