মালদার বন্যা-ভাঙন রোধে কেন্দ্রের কাছে ৩৩০০ কোটির প্রস্তাব! দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়ে স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

মালদার রতুয়া ও ভুতনি এলাকার বানভাসি মানুষদের জন্য এবার স্থায়ী আশার আলো। বছরের পর বছর ধরে বর্ষার মরশুমে গঙ্গার ভাঙন ও বন্যায় সর্বস্বান্ত হওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে এই দুর্ভোগের চিরস্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার আকাশপথে বন্যাকবলিত এলাকা খতিয়ে দেখার পর তিনি জানান, বন্যা ও ভাঙন রোধে কেন্দ্রের কাছে ইতিমধ্যেই ৩৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার।
এই প্রথম রাজ্যের কোনও মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি এই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করলেন। মানিকচকের মথুরাপুর বিএসএস হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গত ৫০ বছরে কোনও সরকার এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়নি। লাখো মানুষকে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে পারেনি। তবে এবার থেকে ভাঙন ও বন্যার আমরা স্থায়ী সমাধান করব।” তিনি জানান, কানপুর আইআইটি-র বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই ভুতনির ভেঙে যাওয়া ১,৪০০ মিটার বাঁধের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। কেন্দ্রের কাছে পাঠানো ৩৩০০ কোটির প্রস্তাবের মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে।
এদিন দুর্গত মানুষদের হাতে আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্তদের ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের ৯০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৪,৫৯৫টি বানভাসি পরিবারের জন্য মোট ২৪২ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ বরাদ্দ করেছে রাজ্য। পাশাপাশি, আসন্ন দুর্গাপুজো উপলক্ষে পাঁচ হাজার পরিবারকে নতুন পোশাক, মশারি, ত্রিপল ও পাঁচদিনের রেশন সামগ্রীও প্রদান করা হয়।
বন্যা মোকাবিলার পাশাপাশি রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যে ১২৪৮ কিলোমিটার রাস্তা খুব দ্রুত সংস্কার করা হবে এবং আগামীতে রাজ্যে নতুন করে এক লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসতে চলেছে।