‘এরা ছাপ্পাও মারতে পারে না!’ উপনির্বাচনের জয়কে তাচ্ছিল্য মমতার, কড়া বার্তা শুভেন্দুকেও
বাংলার জোড়া বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে বিজেপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করলেও, এই উপনির্বাচন ও তার ফলাফলকে সরাসরি তাচ্ছিল্য করে উড়িয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে আয়োজিত বিরোধী জোটের বৈঠকের আগে তিনি কটাক্ষ করে বলেন যে, এটি কোনো প্রকৃত ভোটই হয়নি এবং বিরোধীরা ঠিকমতো ছাপ্পা ভোটও দিতে পারে না। রেজিনগরের একটি বুথে মোট ভোটারের চেয়ে বেশি ভোট পড়ার যে দাবি শাসকদল করেছিল, তা টেনে এনে মমতা অভিযোগ করেন যে পুলিশকে দিয়ে করানো এই ভুয়ো ভোটের কোনো ভিত্তি নেই। যদিও নির্বাচন কমিশন পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তি জারি করে নিশ্চিত করেছে যে সমাজমাধ্যমে প্রচারিত সেই তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুয়ো।
অন্যদিকে, দুই কেন্দ্রেই বিজেপির বড় ব্যবধানে জয়কে কেন্দ্র করে সুর চড়িয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন যে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ভরসা রেখেই সংখ্যালঘু ভোটাররা পদ্মশিবিরে ভোট দিয়েছেন। নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থীর ১ লক্ষ ২২ হাজারের বেশি ভোটে জয় এবং রেজিনগরে বিপুল ব্যবধানকে শুভেন্দু জনমতের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন। তবে শুভেন্দুর এই সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অত্যন্ত বিরক্তি প্রকাশ করে মমতা কটাক্ষের সুরে পরামর্শ দেন যে, তাঁর আগে নিজের মাথা ঠিক করা উচিত। দুই হেভিওয়েট নেতার এই বাকযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে এবং আগামী দিনে এই রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।