প্রশান্ত বর্মনের মামলায় হঠাৎ বেঞ্চ বদল! সুপ্রিম কোর্টে শুরু আইনি জল্পনা

প্রশান্ত বর্মনের মামলায় হঠাৎ বেঞ্চ বদল! সুপ্রিম কোর্টে শুরু আইনি জল্পনা

খুনের মামলায় অভিযুক্ত সাসপেন্ডেড বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে গত মঙ্গলবার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রশান্ত। শীর্ষ আদালতের কজলিস্ট অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে এই মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা। আর এই বেঞ্চ গঠন ঘিরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আইনি মহলে।

গত ১৯ জানুয়ারি বিতর্কিত বিডিও প্রশান্তর প্রায় একই রকম আবেদনের শুনানি হয়েছিল তৎকালীন বিচারপতি রাজেশ বিন্দল (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চে। বর্তমানে বিচারপতি মনোজ মিশ্রর সঙ্গে একই বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোই। অথচ সমজাতীয় একটি মামলার নতুন আবেদন কেন বিচারপতি বিষ্ণোইকে বাদ দিয়ে অন্য বেঞ্চে পাঠানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আইনজীবীদের একাংশ। বিচারপতি মিশ্র ও বিচারপতি বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চকে এড়ানোর জন্যই কি এই নতুন বেঞ্চে মামলা পাঠানো হয়েছে—এমন প্রশ্নও জোরালো হচ্ছে।

কলকাতা হাইকোর্টের বর্ষীয়ান আইনজীবী মিলন মুখোপাধ্যায়ের মতে, “একই ধরনের মামলায় আগের বেঞ্চের কোনো বিচারপতি যদি বর্তমানে অন্য কোনো বেঞ্চেও বহাল থাকেন, তবে সেই বেঞ্চেই মামলাটি ওঠার কথা। এটাই প্রচলিত নিয়ম। এর অন্যথা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কন্যা তথা নয়ডার জেলাশাসক মেধা রূপমের মামলায় বেঞ্চ নির্ধারণ নিয়ে প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যে চারটি বেঞ্চের ওই মামলা শোনার এক্তিয়ার ছিল, তাদের এড়িয়ে কী করে ‘মাস্টার অব দ্য রোস্টার’ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বিচার্য তালিকার বাইরে থাকা বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার এজলাসে মামলাটি পাঠালেন, সেই বিতর্ক এখনও থিতু হয়নি। এই আবহেই প্রশান্তর মামলায় বেঞ্চ নির্ধারণ নিয়ে আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলছেন যে, আগের শুনানির সঙ্গে যুক্ত বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টেই থাকা সত্ত্বেও অন্য বেঞ্চে কেন মামলাটি পাঠানো হলো! তবে অন্তত এ ক্ষেত্রে বিচার্য বিষয় এড়িয়ে বেঞ্চ নির্ধারণের ঘটনা ঘটছে না।

এই বিতর্কের অন্য একটি দিকও রয়েছে। আইনজীবীদের বক্তব্য, এর আগের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশান্তকে আগাম জামিন দিতে অস্বীকার করেছিল এবং আত্মসমর্পণের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছিল। এবারও সেই একই মামলার সূত্রে তাঁর জেলে যাওয়া বা না-যাওয়ার আইনি লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিযুক্ত।

পূর্বে একবার একই আবেদনের বিচার হয়ে যাওয়ার পর ফের নতুন বেঞ্চে একই বিষয়ের শুনানি হলে বিচারপ্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বহু আইনজীবী। তাঁদের মত, একই বিষয়ের ফয়সালা যদি আবারও করতে হয়, তবে তা বৃহত্তর বেঞ্চে—অর্থাৎ অন্তত তিন বিচারপতির বেঞ্চেই হওয়া উচিত। মঙ্গলবারের শুনানিতে মামলার মূল বিষয়ের পাশাপাশি বেঞ্চ নির্ধারণের এই প্রসঙ্গটিও জোরালোভাবে উঠতে পারে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। তবে সে ক্ষেত্রে রাজ্যের আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। অন্য দিকে, প্রশান্ত বর্মনের পক্ষে সওয়াল করার কথা রয়েছে প্রবীণ আইনজীবী মুকুল রোহতগির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *