‘কাজ না থাকলে চল আন্দোলন করি!’ সিজেপি-র প্রতিবাদকে ‘ফ্যাশন’ বলে তীব্র তোপ দিলীপ ঘোষের

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবং ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজধানী দিল্লিতে। শনিবার দিল্লির যন্তর-মন্তরে সিজেপি (CJP)-র আন্দোলনকে ঘিরে পুলিশি আটক ও ব্যাপক সংঘর্ষের পর রবিবারও থমথমে পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা—দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না তাঁরা।
এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই আন্দোলনকারীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন প্রবীণ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। সিজেপি-র এই প্রতিবাদকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ভারতে আজকাল আন্দোলন করাটা এক ধরণের ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাদের কোনো কাজ থাকে না, তারা বলে ‘চল আন্দোলন করি’। বিদেশি অনুদান ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির হাতের পুতুল হয়েই এরা এসব করছে। কিছুদিন পর এসব বন্ধ হয়ে যাবে।”
শনিবারের এই বিক্ষোভে সামিল হওয়া প্রায় তিন হাজার আন্দোলনকারীকে পুলিশ আটক করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিজেপি-র শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপক, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিমান থেকেও আগাম গ্রেফতার (প্রিভেনটিভ অ্যারেস্ট) করা হয়। যদিও রবিবার সকালে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, এই আন্দোলনের নেপথ্যে বড় কোনো চক্রান্ত রয়েছে বলে দাবি করেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন অভিযোগ তুলেছেন, দেশে অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চক্রান্ত চলছে। তাঁর মতে, ১৪০ কোটি মানুষকে বিভ্রান্ত করতে দুটি গোষ্ঠী সক্রিয়—যার একটি ‘ইন্ডি’ (INDI) জোট এবং অন্যটি সিজেপি।
তবে বিজেপি নেতৃত্বের তীব্র কটাক্ষ এবং কড়া পুলিশি নিরাপত্তা সত্ত্বেও সিজেপি নিজেদের দাবিতে অনড়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। রবিবারের ছুটির দিনেও সব মিলিয়ে দিল্লির রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।