নারীশক্তির ঐতিহাসিক জয়! অন্নপূর্ণা যোজনার টাকায় সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামে শুরু প্রথম দুর্গাপুজো

রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকাতেই এবার ঘরে ঘরে শারদোৎসবের আনন্দ। উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবন সংলগ্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে সেই আনন্দের চিত্র রূপ নিয়েছে এক সামাজিক ইতিহাসে। অন্নপূর্ণা প্রকল্পের অর্থ সঞ্চয় করে এবার দুর্গাপুজোর উদ্যোগ নিয়েছেন বসিরহাট মহকুমার মিনাখাঁ ব্লকের চাপালি এবং হিঙ্গলগঞ্জের দুলদুলি পূর্বপাড়ার সাধারণ নারীরা। নিজেদের এক মাসের প্রাপ্ত ৩,০০০ টাকা একত্রিত করে দেবী দুর্গার আরাধনায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, জুন মাস থেকে কার্যকর হওয়া অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন কোটি কোটি নারী। সেপ্টেম্বর মাসেই প্রায় দেড় কোটিরও বেশি মহিলা তাঁদের অ্যাকাউন্টে এই সহায়তা পেয়েছেন। আর সেই সঞ্চিত অর্থই এবার গ্রামীণ মহিলাদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি তাঁদের এনে দিয়েছে যৌথ উৎসব উদযাপনের আনন্দ।
কৃষি ও ভেড়ি-নির্ভর জীবিকার গ্রাম চাপালিতে অতীতে কখনো দুর্গাপুজো হয়নি। অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তায় এই প্রথমবার গ্রামে গড়ে উঠছে প্যান্ডেল, যার মূল উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপক গ্রামের নারীরাই। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। অন্যদিকে, হিঙ্গলগঞ্জের দুলদুলি পূর্বপাড়ায় গত দু’বছর চাঁদার টাকায় কোনোমতে ছোটখাটো পুজো হলেও, এবার অন্নপূর্ণার টাকায় নারীরা নিজেদের মনের মতো করে জাঁকজমকপূর্ণ পুজোর আয়োজন করতে পারছেন।
মহিলাদের এই অনন্য উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক রেখা পাত্র বলেন, “অন্নপূর্ণা প্রকল্পের মধ্য দিয়ে আজ নারীশক্তির জয় হয়েছে। মায়েদের এই সঞ্চিত অর্থে দুর্গাপুজো হওয়ার চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না।” সব মিলিয়ে, নিজেদের টাকায় মা দুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার আনন্দে এখন আত্মহারা চাপালি ও দুলদুলি গ্রামের নারীরা।