পুজোর আগেই বদলে যাবে শহরের রূপ! নাগরিক পরিষেবা ও নিরাপত্তা নিয়ে বড় নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

শারদোৎসবের প্রস্তুতি যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে, ঠিক তখনই নাগরিক পরিষেবার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর কটা দিন শহরের রাস্তায় নামবেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। মণ্ডপ দর্শনের পাশাপাশি গঙ্গার ঘাটেও থাকবে উপচে পড়া ভিড়। এই পরিস্থিতিতে রাস্তার দুরবস্থা, নিরাপত্তার ঘাটতি কিংবা পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার মতো কোনো সমস্যা যাতে উৎসবের আনন্দে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন।
পুজো নিয়ে বড় পরিকল্পনা প্রশাসনের
পুজোর প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে পুরসভা, কর্পোরেশন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার কর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ:
- রাস্তা সংস্কার: পুজোর সময়ে রাস্তাগুলিতে গাড়ি ও পথচারীদের চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই উৎসব শুরু হওয়ার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলিকে অবিলম্বে চলাচলের উপযোগী করে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- ঘাটের নিরাপত্তা: গঙ্গার ঘাটগুলিতে ভিড়ের সময়ে দুর্ঘটনা এড়াতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রেখে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। ঘাটে পর্যাপ্ত আলো, নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
- বিশেষ আলোকসজ্জা: দুর্গাপুজো মানেই আলোর সাজে কলকাতার চেনা ছবির বদল। সেই আবহকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও প্রবেশপথগুলিতে বিশেষ আলোকসজ্জার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
- নিউ টাউন ও প্রবেশপথ সাজিয়ে তোলা: কলকাতার পাশাপাশি নিউ টাউনের বিভিন্ন এলাকাকেও সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি বড় রেল স্টেশন, মেট্রো স্টেশন এবং বিমানবন্দরের প্রবেশপথগুলিতেও জমজমাট আলোর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শহরে পা রাখা মাত্রই মানুষ উৎসবের পরিবেশ অনুভব করতে পারেন।
- বেসরকারি সহযোগিতা: এই কাজের জন্য শুধু সরকারি সংস্থার ওপর নির্ভর করতে চাইছে না প্রশাসন। বরং বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শপিং মল, হোটেল ও শিল্প সংস্থাগুলিকেও নিজেদের ভবন এবং আশপাশের চত্বর আলোকিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে শহরের স্বাভাবিক জনজীবন বজায় রেখেই বিপুল ভিড় সামলাতে হয় প্রশাসনকে। যান চলাচল, রাস্তার বেহাল দশা দূর করা, ঘাটের নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্নতা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই আগাম প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। আর সেই কারণেই পুজোর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।