‘ফোন হ্যাক করে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র!’ বিমান থেকে আটকের পর দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক CJP নেতা সৌরভ দাস

‘ফোন হ্যাক করে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র!’ বিমান থেকে আটকের পর দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক CJP নেতা সৌরভ দাস

নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে মুম্বই-দিল্লিগামী বিমান থেকে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) শীর্ষ নেতাদের আটক করার ঘটনায় উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। টানা ২৪ ঘণ্টা হেফাজতে থাকার পর রবিবার মুক্তি পেয়েই দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে মারাত্মক ও চাঞ্চল্যকর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেন সিজেপি নেতা সৌরভ দাস। তাঁর দাবি, আটক নেতাদের মোবাইল ফোন হ্যাক বা ক্লোন করে বড় কোনো আইনি ফাঁদে ফেলার ছক কষা হচ্ছে।

রবিবার বিকেলে এক সাংবাদিক বৈঠকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, শনিবার দিল্লি বিমানবন্দরে বিমান অবতরণের পরপরই তাঁদের মোবাইল ফোনগুলি কেড়ে নেয় পুলিশ। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হলো, ফোন বাজেয়াপ্ত করা হলেও পুলিশ কোনো বৈধ জব্দ তালিকা (Seizure List) প্রদান করেনি।

অতীতে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ভীমা কোরেগাঁও মামলার প্রসঙ্গ টেনে সিজেপি নেতা দাবি করেন, “আমাদের ফোন এতক্ষণ পুলিশের কাছে ছিল। সেখানে কোনো কারসাজি করা হয়নি, তা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ফোনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আপত্তিকর বা ভুয়া নথি (Malicious Files) ঢুকিয়ে দিয়ে পরবর্তীকালে তাঁদের বড় কোনো ষড়যন্ত্রে ফাসানোর চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, ভীমা কোরেগাঁও মামলায় প্রয়াত ফাদার স্ট্যান স্বামীর কম্পিউটারেও ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে ভুয়া তথ্য সাজানোর অভিযোগ উঠেছিল, যা আন্তর্জাতিক ফরেনসিক রিপোর্টেও প্রমাণিত হয়। সৌরভ দাসের দাবি, দিল্লি পুলিশ এখন সেই একই পথ অনুসরণ করছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার সকালে। মুম্বই থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার (AI 2428) বিমানটি দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতেই যাত্রীদের চোখের সামনে হাজির হয় দিল্লি পুলিশের একটি বিশেষ দল। বিমান থেকে নামিয়ে সরাসরি আটক করা হয় সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দিপকে এবং তাঁর দুই সহযোগী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে। ২৪ ঘণ্টা পর তাঁদের মুক্তি দেওয়া হলেও, পুলিশের এই ভূমিকায় এবং ফোন বাজেয়াপ্ত করা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এখন তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *