কাউন্সিলর হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ! বিজেপির ড্রপ বক্সে জমা দিন নিজের বায়োডেটা, আহ্বান সুকান্ত মজুমদারের

পুজো শেষ হতেই দরজায় কড়া নাড়ছে পুরসভার নির্বাচন। আর সেই কারণে তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। শুধু দলীয় নেতাকর্মীই নয়, আসন্ন পুরভোটে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদেরও প্রার্থী হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ করে দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। কোন প্রক্রিয়ায় আবেদন করা যাবে এবং প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ঠিক কোন বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা সম্প্রতি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা সাংসদ সুকান্ত মজুমদার।
সুকান্তবাবু জানিয়েছেন, বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাই হবে সবথেকে বড় মাপকাঠি। শুধু রাজনৈতিক কর্মী নন, চিকিৎসক, শিক্ষক সহ সমাজের বরেণ্য ব্যক্তিদেরও এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এই উদ্দেশ্যে কলকাতার ৬ মুরলীধর সেন লেনে অবস্থিত রাজ্য বিজেপি কার্যালয়ে একটি বিশেষ ‘ড্রপ বক্স’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এই প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে ৬ মুরলীধর সেনে বিজেপির পার্টি অফিসে একটি ড্রপ বক্স রাখা হবে। পার্টি অফিস খোলা অবস্থায় সমস্ত স্তরের মানুষ— তাঁরা বিজেপির কর্মী হতে পারেন বা নাও পারেন, কিংবা সমাজের প্রথিতযশা মানুষ যেমন ডাক্তার, শিক্ষক— সবাইকে বলছি, গ্যালারি থেকে বসে হাততালি দিলে হবে না, আপনারা পিচে নেমে খেলুন। আমরা একটি স্বচ্ছ পুরনিগম তৈরি করতে চাই।”
আগ্রহী প্রার্থীদের নিজেদের নাম ও বায়োডেটা সরাসরি মুরলীধর সেন লেনের পার্টি অফিসের ড্রপ বক্সে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, পুর প্রশাসনে প্রোমোটার ও ডেভেলপারদের একচ্ছত্র প্রভাব খর্ব করে তরুণ যুবসমাজকে রাজনীতির মূলস্রোতে সামনে নিয়ে আসার বার্তা দিয়েছেন সুকান্ত। ওয়ার্ডভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী ও যুবকদের মতামত জানারও বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায়, “কোনও প্রোমোটার বা ডেভেলপাররা পুরসভা চালাবে না। যুবসমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে আসতে অনুরোধ করব। যুবসমাজ ও ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে ওয়ার্ডভিত্তিক কথা বলব।”
এদিকে, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বামেদের বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছেন বিজেপি সাংসদ। বিগত পাঁচ মাসে দলের জনমুখী উদ্যোগের ফলেই সাম্প্রতিক দুটি উপনির্বাচনে দল আশাতীত সাফল্য পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে দল। সুকান্ত মজুমদারের ভাষায়, “সিপিএম এই মুহূর্তে অপ্রাসঙ্গিক। তৃণমূলে সবাই প্রাক্তন হয়ে যাচ্ছে। কেউ আর কাছাকাছি থাকতে চাইছে না। এই পরিস্থিতিতে আমরা নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। গত ৫ মাসে জনদরদী উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা দুটো উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছি। আমরা নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার অপেক্ষায় আছি। এটা কোনও রাজনৈতিক নির্বাচন নয়, শহরের মানোন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই এই লড়াই।”
সব মিলিয়ে, আসন্ন পুরভোটের আগে প্রার্থী বাছাইয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, স্থানীয় স্তরে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মকে গুরুত্ব দেওয়ার এক অভিনব কৌশল নিয়েছে বিজেপি। এখন দেখার, এই বিশেষ উদ্যোগ গেরুয়া শিবিরকে নির্বাচনী লড়াইয়ে কতটা বাড়তি সুবিধা এনে দেয়।