সীমান্ত পেরিয়ে ১৫ বছর ভারতে! সাধুর ছদ্মবেশে থাকা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী অবশেষে পুলিশের জালে

সাধুর ছদ্মবেশে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, কিন্তু শেষরক্ষা হল না! কোচবিহারের তুফানগঞ্জে এক ব্যক্তিকে ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্যের জাল অবশেষে ভেদ করল পুলিশ। গেরুয়া পোশাক আর কপালে সিঁদুরের ফোঁটা দেখে প্রথমে তাঁকে সাধারণ কোনো সাধু বলেই মনে করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু তাঁর চালচলন ও পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধতেই ঘটে যায় বড়ো বিপত্তি।
জানা গেছে, ধৃত ওই ব্যক্তি আদতে একজন বাংলাদেশি নাগরিক। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তিনি কীভাবে ভারতে প্রবেশ করলেন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লুকিয়ে রইলেন, তা নিয়ে এখন চুলচেরা তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের ভানুকুমারী এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ব্যক্তি এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন। তাঁর পরনে সাধুদের মতো পোশাক থাকায় স্থানীয়দের নজর কাড়ে। কিন্তু আগে কখনও এলাকায় তাঁকে দেখা না যাওয়ায় দোকানদার ও বাসিন্দাদের মনে সন্দেহ জাগে।
এরপর তাঁর পরিচয় জানতে চেয়ে কথাবার্তা শুরু করলে তাঁর বক্তব্যে বেশ কিছু অসংগতি ধরা পড়ে। সন্দেহ আরও গভীর হলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে আটকে রেখে বক্সিরহাট থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ব্যক্তির নাম আব্দুল খায়ের চৌধুরী। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫ বছর আগে উত্তর ২৪ পরগনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন তিনি। এরপর দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে নানা তুকতাকের কাজ করতেন বলে অভিযোগ।
বর্তমানে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তীব্র জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কীভাবে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে ঢুকলেন, এতদিন কোথায় কোথায় লুকিয়ে ছিলেন এবং ভানুকুমারীতে আসার নেপথ্যে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল কি না—সব দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তাঁর আসল পরিচয়পত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করাও এই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আসামের গুয়াহাটিতেও পুলিশের পৃথক অভিযানে ১৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতার হওয়ার খবর সামনে এসেছিল। কোচবিহারের এই ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য ও কৌতূহল ছড়িয়েছে।