৭ হাজার মানুষকে অবৈধ আটকের অভিযোগ! দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একজোট ১৪৬ হেভিওয়েট আইনজীবী

৭ হাজার মানুষকে অবৈধ আটকের অভিযোগ! দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একজোট ১৪৬ হেভিওয়েট আইনজীবী

দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসনের খামখেয়ালি আচরণ এবং সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এক অভূতপূর্ব আইনি সংঘাতের সূচনা হয়েছে। গত ৯ই অক্টোবরের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে নির্বিচারে লোকজনকে আটক করা, মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত করার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন দেশের ১৪৬ জন প্রবীণ ও বিশিষ্ট আইনজীবী।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আইনি ময়দানে মহারথীদের মেলা দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে এই আইনি লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবীরা। আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন দেশের আইনি জগতের মহারথীরা। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন—

  • কে. কে. ভেনুগোপাল (প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট)
  • কপিল সিবাল (সিনিয়র অ্যাডভোকেট)
  • ডাঃ মেনকা গুরুস্বামী (সিনিয়র অ্যাডভোকেট)
  • এন. হরিহরণ (সিনিয়র অ্যাডভোকেট)
  • গোপাল শঙ্করনারায়ণন (সিনিয়র অ্যাডভোকেট)

এ ছাড়াও শাদান ফারাসাত, শোয়েব আলম, সঞ্জয় হেগড়ে, ডঃ মনিকা গুসাইন, অরুন্ধতী কাটজু, শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠি, আনাস তানভীর এবং অপার গুপ্ত সহ মোট ১৪৬ জন আইনজীবী এই যৌথ আইনি লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এবং অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস.ভি. রাজুসহ ১১ জন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

আইনজীবীদের বিস্ফোরক অভিযোগ আবেদনকারী আইনজীবীরা আদালতে অভিযোগ করেছেন যে, দিল্লি পুলিশ সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিল্লির জিটিবি নগর ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ ৪৫টিরও বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছিল। শুধু তাই নয়, নিউ দিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনে যাতায়াত আটকে দেওয়া, ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত করা এবং গোটা রাজধানীতে কার্যত কারফিউ-এর মতো অঘোষিত পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।

প্রবীণ আইনজীবী ডাঃ মেনকা গুরুস্বামী চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানান যে, পুলিশ প্রায় ৭,০০০ মানুষকে বেআইনিভাবে আটক করেছে। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের চারপাশে ভারতীয় ন্যায় সংহতির (BNSS) ১৬৩ ধারা উল্লেখ করে নোটিশ বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীদের চলাফেরাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

সরকারের সাফাই ও সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ অন্যদিকে, সরকারের তরফে অভিযোগ অস্বীকার করে জানানো হয় যে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দিল্লির ৩০৩টি মেট্রো স্টেশনের মধ্যে মাত্র ৪৫টি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল, যা পরে আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেট পরিষেবাও বর্তমানে স্বাভাবিক করা হয়েছে।

উভয় পক্ষের সওয়াল শোনার পর আদালত অবমাননার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়ে সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ জারি করেছে। একইসঙ্গে আদালত সাফ নির্দেশ দিয়েছে যে— ১. মেট্রো ও ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখতে হবে। ২. শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের কোনোভাবেই অবৈধভাবে আটক করা যাবে না। ৩. সুপ্রিম কোর্টের বাইরে থাকা ‘ধারা ১৬৩’ লেখা বিতর্কিত সাইনবোর্ড অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে। ৪. আইনজীবী, সাংবাদিক এবং পেশাজীবীদের পেশাগতকাজে কোনো বাধা দেওয়া চলবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *