অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকার জাদুতে ঘুরে গেল চাকা! মহিলা পরিচালিত দুর্গা পুজোয় বড় লাফ বাজেটে

রাজ্যের নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চালু করা হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্প। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই প্রকল্পের আওতায় মাসিক ৩০০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করছে সরকার। আর সেই ভাতার টাকাতেই এবার ধুমধাম করে উমার আরাধনায় মেতে উঠেছেন রাজ্যের সাধারণ মহিলারা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই এমন অনুপ্রেরণামূলক ছবি সামনে আসছে। আর এই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকাতেই এবার ধূপার একটি সম্পূর্ণ মহিলা পরিচালিত পুজোয় এসেছে বিরাট পরিবর্তন।
শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ধূপার মহিলা পরিচালিত পুজোর বাজেট এবার অনেকটাই বেড়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা বাড়ার কারণে। বাড়ি বাড়ি চাঁদা তোলা থেকে শুরু করে পুজোর সরঞ্জাম কেনা, প্যান্ডেল তৈরি কিংবা ভোগ রান্নার আয়োজন— সবই নিজেদের হাতে সামলাচ্ছেন মহিলারা। সাধারণ চাঁদার পাশাপাশি নিজেদের অন্নপূর্ণা ভাতার জমানো টাকা থেকেও বড় অংশ পুজোর ফান্ডে দিচ্ছেন তাঁরা।
উদ্যোক্তাদের কথায়, “আগে মূলত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা থেকেই পুজোর খরচ জোগাড় করা হতো। বর্তমানে রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের পুজোর বাজেটও অনেকটাই বেড়েছে।” প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে প্রায় ৭০-৮০ জন মহিলা মিলে সরকারি ভাতার টাকায় এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। সময়ের সাথে সাথে যেমন ভাতার পরিমাণ বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে সদস্য সংখ্যাও। সব মিলিয়ে তাঁদের এবারের দুর্গোৎসব কাটছে দারুণ আনন্দে।
শুধু ধূপার নয়, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দিয়ে বসিরহাট মহকুমার সুন্দরবন সংলগ্ন মিনাখাঁর চাপালি এবং হিঙ্গলগঞ্জের দুলদুলি পূর্বপাড়ার মহিলারাও দুর্গাপুজোর অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। এই দুই গ্রামের সাধারণ মহিলারা নিজেদের এক মাসের অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা হাসিমুখে তুলে দিয়েছেন পুজোর কাজে।
ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যের মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এই অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করেছে সরকার। চলতি বছরের জুন মাস থেকেই এই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা প্রদান শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে গত সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যের দেড় কোটিরও বেশি মহিলা এই প্রকল্পের টাকা হাতে পেয়েছেন। আর সেই অর্থকেই সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে মা দুর্গার আরাধনার বেনজির উদ্যোগ নিয়ে গোটা রাজ্যকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন বাংলার নারীরা।