‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিলে দিল্লি পুলিশের বাধা! এবার সুপ্রিম কোর্টের দরজায় রাহুল-খাড়গে সহ ১১ হেভিওয়েট বিরোধী নেতা

‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিলে দিল্লি পুলিশের বাধা! এবার সুপ্রিম কোর্টের দরজায় রাহুল-খাড়গে সহ ১১ হেভিওয়েট বিরোধী নেতা

নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘SIR’ (Special Intensive Revision)-এ ব্যাপক অনিয়ম ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নাম বাদ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলে এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দরজায় পৌঁছাল বিরোধী INDIA জোট। একইসঙ্গে দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশের বাধা ও বিধিনিষেধ আরোপের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেতারা। সোমবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের যৌথ নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করা হয়।

শীর্ষ আদালতে যৌথ মামলায় ১১ জন হেভিওয়েট নেতা

সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া এই পিটিশনে দেশের প্রধান প্রধান বিরোধী দলের ১১ জন প্রথম সারির নেতা স্বাক্ষর করেছেন। আবেদনকারীদের তালিকায় রয়েছেন:

  • কংগ্রেস: রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে
  • তৃণমূল কংগ্রেস: সৌগত রায়
  • সমাজবাদী পার্টি: অখিলেশ যাদব
  • আরজেডি: তেজস্বী প্রসাদ যাদব
  • শিবসেনা (UBT): সঞ্জয় রাউত
  • বামপন্থী দল: এম এ বেবি (CPIM) ও ডি রাজা (CPI)
  • অন্যান্য দল: মহুয়া মাঝি (JMM), সুপ্রিয়া সুলে (NCP-SCP) এবং ইটি মহম্মদ বশির (IUML)।

এই মামলায় ভারতের নির্বাচন কমিশনসহ (ECI) মোট চারটি পক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে। প্রবীণ আইনজীবী তথা কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি জানান, বিচারব্যবস্থার ওপর কোনো চাপ তৈরির চেষ্টা করা হয়নি; বরং সঠিক আইনি পথেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছে।

পথেই আটকে দিল পুলিশ: নাটकीय ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’

এর আগে সংসদ ভবন চত্বর ও কনস্টিটিউশন ক্লাব থেকে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশ্যে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ বা গণতন্ত্র বাঁচাও পদযাত্রার আয়োজন করেন বিরোধী সাংসদরা। তবে ভগবান দাস রোডে বিশাল ব্যারিকেড তৈরি করে তাঁদের পথ আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ।

পুলিশি বাধার মুখে আন্দোলনকারীরা রাস্তায় বসে পড়েন এবং পরবর্তীতে রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদব একটি গাড়ির ছাদে উঠে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় বিক্ষোভ সীমাবদ্ধ করার পুলিশি নির্দেশিকাকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন জয়রাম রমেশসহ অন্যান্য কংগ্রেস নেতারা।

“ইস্তফা দিয়ে রাজসাক্ষী হন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার”: রাহুলের তোপ

সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়েরের আগে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি নিশানা করেন রাহুল গান্ধী। রাহুল বলেন:

“আপনি পদত্যাগ করুন এবং রাজসাক্ষী হন। এই বিশাল অনিয়মের পেছনে আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’ আপনি নন, আপনাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।”

রাহুল গান্ধী আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানান, প্রায় ২০০ জন সরকারি আধিকারিক বর্তমানে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং অনিয়মের নানা তথ্য প্রদান করছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রয়োজন হলে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার এই লড়াই দীর্ঘদিন ধরে চলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *