হাইকোর্টের সবুজ সঙ্কেত পেলেও স্বস্তি নেই, সিপিএমের বুকস্টল কাণ্ডে ডিভিশন বেঞ্চে গেল রাজ্য!

হাইকোর্টের সবুজ সঙ্কেত পেলেও স্বস্তি নেই, সিপিএমের বুকস্টল কাণ্ডে ডিভিশন বেঞ্চে গেল রাজ্য!

দুর্গাপুজোর আবহে বনগাঁ ও নৈহাটিতে সিপিএমের বইয়ের স্টল দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও আইনি লড়াই চরমে উঠেছে। পুলিশের অনুমতি মেলেনি—এই অভিযোগ তুলে বামেরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। এরপর গত বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ পঞ্চমীর দিন, বনগাঁয় সিপিএমকে বুকস্টল তৈরির অনুমতি দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তবে আদালতের এই রায়ে একেবারেই সন্তুষ্ট নয় রাজ্য সরকার। একক বেঞ্চের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এবার সরাসরি প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য। শুক্রবার, ষষ্ঠীর দিন এই মামলার জরুরি শুনানির কথা রয়েছে।

মামলার সূত্রপাত কোথায়?

বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর রায়ে স্পষ্ট জানান, পুজোপ্যান্ডেলের ১০০ মিটারের মধ্যে শর্ত সাপেক্ষে ওই বুকস্টল বসানো যেতে পারে। সেই সঙ্গে স্টল নির্মাণ ও পরিচালনার সময় যাতে কোনও রকম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, তার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের এই নির্দেশ মেনে স্টল তৈরি হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে পুলিশ সুপারকে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

আদালতে শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্যকে কড়া প্রশ্ন করেন, একটি রাজনৈতিক দল বইয়ের স্টল দিতে চাইলে সেখানে প্রশাসনের আপত্তির কারণ কী? যে জায়গায় স্টল বসানোর আবেদন করা হয়েছে, সেখানে বড় কোনও পুজো হচ্ছে কি না কিংবা অন্য কেউ স্টল বসানোর অনুমতি পেয়েছে কি না—সে বিষয়েও জানতে চান বিচারপতি। অন্যান্যরা যদি অনুমতি পেয়ে থাকে, তবে সিপিএম কেন পাবে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

রাজ্যের যুক্তি ও আপত্তি

অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে জানান যে, সিপিএম যে জায়গায় বুকস্টলটি বসাতে চাইছে, সেই জমিটি মূলত পূর্ত দফতরের (PWD) অধীনস্থ। তাই সেখানে কোনও ধরনের অস্থায়ী কাঠামো বা স্টল তৈরি করতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ওই দফতরের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। রাজ্যের দাবি, সিপিএম সরাসরি পূর্ত দফতরের কাছে কোনও আবেদন না করেই মহকুমাশাসকের (SDO) কাছে অনুমতি চেয়েছিল।

নজর এখন ডিভিশন বেঞ্চে

সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ের পর প্রাথমিক ভাবে মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ২৩ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার এই নির্দেশ মানতে নারাজ হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদন জানায়। আজ শুক্রবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এখন আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ এই আইনি টানাপোড়েনে কী রায় দেয়, সেদিকেই সব মহলের নজর রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *